বরিশালের কীর্ত্তনখোলা নদীতে শুক্রবার (১৪ জুলাই) সকালে দুটি নৌযানের সংঘর্ষ হয়েছে। তেলবাহী ট্যাংকার এমটি ফজলের সঙ্গে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালবাহী কার্গো এমভি মা-বাবার দোয়া’র মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বেশ কিছু পরিমাণ জ্বালানি তেল নদীতে ভেসে গেছে। পরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নদীতে তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
বরিশাল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই মো. হারুন জানান, চট্টগ্রাম থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার লিটার ডিজেলবাহী ট্যাংকার এমটি ফজল বরিশালের যমুনা ডিপোর দিকে আসছিল। পথে কীর্ত্তনখোলা নদী অতিক্রমকালে ভারত থেকে আসা ১০৬৪ মেট্রিকটন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল নিয়ে নারায়ণগঞ্জগামী কার্গো এমভি মা বাবার দোয়া-২ এর সঙ্গে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে চর কাউয়া এলাকায় মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় উভয় জাহাজ একে অন্যের ওপর সামনের দিক দিয়েই আছড়ে পড়লে কার্গো ও ট্যাংকারের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারের সামনের একটি চেম্বারের ফাটল দিয়ে সেখানে মজুদ তেল নদীতে চুইয়ে পড়তে শুরু করে। পরে ট্যাংকার কর্মীরা দ্রুত সেখানকার মজুদ তেল ও ড্রাম ট্যাংকারের আরেকটি চেম্বারে নিয়ে যান। এর ফলে তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান বরিশাল নদী বন্দরের কর্মরত নৌ-নিরাপত্তা ও যাত্রী সুরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু।
এদিকে দুর্ঘটনার পর কীর্ত্তনখোলার চর কাউয়ায় কার্গোটি এবং চাদমারি এলাকায় ট্যাংকারটি ভিড়িয়ে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা দায়ের করেনি বলেও তিনি জানান।
দুর্ঘটনার আগে ট্যাংকার থেকে সংকেত পাঠানো হলেও পাইলট না-থাকার কারণে কার্গো থেকে কোনও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করেন এমটি ফজলের প্রধান চালক জামসেদুর রহমান।
কার্গো এমভি মা বাবার দোয়া-২ এর সুকানি মো. এরশাদ আলী স্বীকার করেন কাউখালী থেকে তাদের জাহাজে পাইলট ওঠার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পাইলট না-আসায় তারা পাইলট বিহীনভাবেই জাহাজটি চালাচ্ছিলেন।
/এফএস/
আরও পড়ুন- নির্মাণ শেষ না হতেই সিরাজগঞ্জে পাউবোর রিং বাঁধে ধস, লোকালয়ে পানি








