বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী, মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান পিরোজপুরের সন্তান মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে তাকে। রাখা হয়েছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে। জিয়াউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই কামাল উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কামাল উদ্দিন আহমেদ আরও জানান, সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ভাই মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ গত শুক্রবার (২৮ জুলাই) মারা যান। ১ জুলাই মেজর জিয়াউদ্দিন অসুস্থ হলে স্কয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার দুটি কিডনি অচল ও লিভারের অবস্থা খারাপ বলে জানায়। মধ্য জুলাইয়ের দিকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিনের ভাগ্নে শাহানুর রহমান শামীম জানান, রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জিয়াউদ্দিনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকাল ৩ টার দিকে জিয়াউদ্দিন আহমেদের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। সোমবার (৩১ জুলাই) মেজর জিয়ার মরদেহ পিরোজপুরের জন্মভিটায় আনা হবে। এরপর জোহরবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
সুন্দরবনের ‘মুকুটহীন সম্রাট’নামে খ্যাত জিয়াউদ্দিন আহমেদ পিরোজপুর শহরের শহীদ ফজলুল হক সড়কের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দীন আহমেদ পিরোজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জিয়াউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭১ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে পশ্চিম পাকিস্থানে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জুলাই মাসে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দায়িত্ব পান ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন অঞ্চলে শত্রুদমনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে ‘মুকুটহীন সম্রাট’ উপাধী দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ব্যারাকে ফিরে যান। পরে মেজর হিসেবে পদমর্যাদা পান।
/এফএস/
আরও পড়ুন- মুক্তিযুদ্ধের নবম সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আর নেই








