বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন

পিরোজপুর প্রতিনিধি
০১ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৫৭আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৫৭

বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাক্ষী, মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান পিরোজপুরের সন্তান মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পিরোজপুর শহরের শহীদ ফজলুল হক সড়কে পৈতৃক নিবাসে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়।
সোমবার বিকালে (৩১ জুলাই) পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জিয়াউদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকালে জিয়াউদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত আফতাব উদ্দিন মহাবিদ্যালয়ে তার লাশ নেওয়া হলে ছাত্র-শিক্ষকরা শ্রদ্ধা জানান। এরপর তার মরদেহ নেওয়া হয় শহরের শহীদ মিনারে। সেখানে বিভিন্ন সংগঠন তাকে শ্রদ্ধা জানায়। পরে জিয়াউদ্দিনের মরদেহ দাফনের জন্য তাদের বাসায় নেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের একটি চৌকস দল লাশ গ্রহণ করে দাফন সম্পন্ন করেন।
দাফন শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইনুর রহমানের নেতৃত্বে গানসেলুটের মাধ্যমে মেজর জিয়াউদ্দিনকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।এরপর তিনি জিয়াউদ্দিন আহমেদের মরদেহের সঙ্গে থাকা জাতীয় পতাকা তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, ‘পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতেন জিয়াউদ্দিন। এ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেছেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার পর সে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিকামী মানুষদের সংগঠিত করে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রশিক্ষণ দেন। মারা যাওয়ার পর সোমবার সে বিদ্যালয় মাঠে তাকে শেষ বিদায় জানায় মুক্তিযোদ্ধা -জনতা।’
শুক্রবার (২৮ জুলাই) সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ মারা যান। মুক্তিযুদ্ধের নবম সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ
সুন্দরবনের ‘মুকুটহীন সম্রাট’নামে খ্যাত জিয়াউদ্দিন আহমেদ পিরোজপুর শহরের শহীদ ফজলুল হক সড়কের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দীন আহমেদ পিরোজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জিয়াউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭১ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জুলাই মাসে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দায়িত্ব পান ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন অঞ্চলে শত্রুদমনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে ‘মুকুটহীন সম্রাট’ উপাধী দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ব্যারাকে ফিরে যান। পরে মেজর হিসেবে পদমর্যাদা পান।

/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম