মূলধন সংকটের কারণে বরিশালে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দাম ভালো না পাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। বরিশালের কাঁচা চামড়া বাজারের সবচেয়ে বড় মোকাম চামারপট্টি ও পদ্মবতী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি ঘুরে এ হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।
চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, এবার মূলধনের তীব্র সংকট। প্রত্যাশা অনুযায়ী মূলধন যোগাড় না হওয়ায় পাইকারী ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়ার সংগ্রহ অভিযান আশানুরুপ করতে পারেননি।
ট্যানারিগুলো ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪৫ টাকা বেঁধে দিলেও স্থানীয়ভাবে বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।
মৌসুমি ব্যবসায়ী ও খুচরা সংগ্রাহক ইউসুফ আলির অভিযোগ, কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ী সমিতি তাদেরকে কম দরে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করছে। ফলে তাদের ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চামড়ার দাম গতবারের তুলনায় শতকরা ২০-৩০ ভাগ কম। স্থানীয়ভাবে বড় আকারের ৩০/৩৫ বর্গফুটের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়। ২০-২৫ বর্গফুটের মাঝারি আকারের একটি গরুর চামড়া ৫০০ টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে। এর থেকে ছোটো গরুর চামড়া ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এবার ৫০ হাজার পিস গরুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা পূরণ হবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ট্যানারিগুলো বিগত বছরের প্রায় ২ কোটি টাকা এখনও বকেয়া রাখায় এই মূলধনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক শহীদুর রহমান শাহিন বলেন, বাজারে প্রয়োজনীয় মূলধন না থাকায় এবার চামড়া কেনায় কোনও প্রতিযোগিতা নেই। অধিকাংশ পাইকার মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকিতেই চামড়া কিনছেন। চামড়া কেনা কাটায় গতি না থাকায় সংগ্রহ অভিযানেও তাই ভাটা পড়েছে। ফলে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বরিশাল পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জিল্লুর রহমান মাসুমের দাবি, ট্যানারিগুলো ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪৫ ফুট দর দিলেও এই চামড়াকে প্রয়োজনীয় লবণ দিয়ে উপযুক্ত করে তুলতে যে খরচ হয় সেটি হিসেবে আসেনি। ঢাকার ব্যবসায়ীরা বকেয়া ২ কোটি টাকা না দেওয়ায় এবং ব্যাংকগুলো কোনও সহায়তা না করায় তারা মূলধন সংকটে পড়েছেন।








