কুয়াকাটায় পূণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব রাসমেলা। আজ শনিবার (৪ নভেম্বর) সূর্য ওঠার আগে থেকে শুরু হয়ে সকাল ৯টার মধ্যে পূণ্যস্নান শেষ হয়। এর পরই ফিরে যেতে শুরু করেন পূণ্যার্থীরা।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বিকালে অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাস উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। রাতে এ উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান। সারারাত ধরে চলে পূজা-অর্চনা, কীর্তন, ভগবত পাঠসহ ধর্মীয় কার্যক্রম। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সমুদ্রস্নানের মাধ্যমে জাগতিক পাপ মোচন হয়, আর পূর্ণ হয় মনের বাসনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু পূণ্যার্থীরাই নন, নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ সমবেত হয়েছিলেন রাসমেলায়। ধর্মীয় এই উৎসব রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসবে।
ভক্তরা জানান, দু’শ বছর যাবত শ্রী কৃষ্ণের রাসলীলাকে ধারণ করেই কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাসমেলা বা রাস উৎসব। পূর্ণিমা তিথীতে গঙ্গাস্নানে ইহলোকের সব পাপ মোচন ও রোগমুক্তি ঘটে বলে বিশ্বাস পূণ্যার্থীদের। শুক্রবার অধিবাসের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়। রাতভর পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান শেষে ঊষা লগ্নে সমুদ্রস্নানের মাধ্যমে নিজেদের যাবতীয় কালিমা মোচন করেন পূণ্যার্থীরা।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাসমেলা ও গঙ্গাস্নান উৎসবে আবাসিক হোটেলগুলোর কোনও রুম খালি ছিল না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে। অন্যান্যবারের চেয়ে এ বছর মেলায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও তুলনামূলক ভালো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
রাসমেলা উপলক্ষে আনসার, ভিডিপি, পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেন পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে। বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা ও চেকপোস্টের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়।
কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের পুরোহীত শ্রী কৃপাসিন্ধু নিতাই দাস বলেন, ‘রাসমেলায় ভক্তদের মহামিলন ঘটে সমুদ্র সৈকতে। বৃন্দাবনের পর থেকেই বিশ্বের নানা স্থানে গঙ্গাস্নান অথবা সমুদ্র স্নানের মধ্য দিয়ে পূর্ণিমা তিথিতে স্নান শেষে পাপমুক্তি লাভ করে ভক্তরা।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা রাসমেলা উদযাপন কমিটির নেতা কাজল বরণ দাস জানান, ‘প্রতিবছরের মতো এবারের পূণ্যস্নান ও মেলাও সু-শৃংঙ্খলভাবে পালিত হয়েছে। শুধু হিন্দুরাই নয়, এখানে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে এসেছেন দেশ-বিদেশের নানা জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ। রাতভর ভক্তরা হরিনাম কীর্তন, পালাগান ও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করে ঊষালগ্নে গঙ্গাস্নান করেছেন। রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে এ বছর লাখো ভক্ত কুয়াকাটায় এসেছেন।’
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান বলেন, ‘উৎসবে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তাই জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল। মানুষ নির্বিঘ্নে মেলা উদযাপন করেছে।’








