বরিশালের গৌরনদীতে যুবলীগের কর্মীরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক গাজী আবু বক্করকে (৫৫) পিটিয়ে জখম করেছে। এসময় তার দুই চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পিঙ্গলাকাঠি বাজারে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন মিয়া জানান, আবু বক্কর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পিঙ্গলাকাঠি বাজারে চা খেয়ে ওষুধ কিনতে যান। তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ফুয়াদ হোসেন অ্যানি। এসময় উপজেলা যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদ আকনের নেতৃত্বে যুবলীগের ৮/১০ কর্মী হঠাৎই হামলা করে তাদের ওপর। আবু বক্করকে পিটিয়ে জখম করে তার চোখ উৎপাটনের চেষ্টা চালায়। এ দৃশ্য অনেকে দেখলেও কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এরপর সেখান থেকে শুক্রবার সকালে তাকে ঢাকার বারিধারা এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, রোগীর বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ডান চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখ ভালো আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের নবগঠিত কমিটির সম্পাদক সৈয়দ মাহবুব আলম এ ঘটনার সঙ্গে যুবলীগের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা যুবলীগের আগের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শুধু সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। হামলাকারিরা তাই যুবলীগের কমিটির কেউ নয়। তবে তারা কর্মী হিসাবে যুবলীগের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকেন। আক্রান্ত ব্যক্তি ইচ্ছা করলে হামলাকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন।’
গৌরনদী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








