বিসিবির পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির মা রেবেকা মহিউদ্দিন এবং বাবা জাতীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মঠবাড়িয়ার মহিউদ্দীন আহমেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১৯ মার্চ সোমবার সকাল ৭টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রেবেকা মহিউদ্দিন। আর জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ ১৯৯৭ সালের ১২ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। প্রসঙ্গত, তৎকালীন পাকিস্তানসহ স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সর্বদা তার পাশে থেকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সব ধরনের চাপ মোকাবিলায় রেবেকা মহিউদ্দিন একজন লৌহকঠিন মানুষের ভূমিকায় নিজেকে অধিষ্ঠিত করেছিলেন।
মহিউদ্দীন আহমেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আজীম-উল হকের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন প্রয়াত রেবেকা মহিউদ্দিন ও মহিউদ্দিন আহমেদের ছেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সদস্য আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি। এছাড়া অন্যদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন- পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আশরাফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বরসহ প্রমুখ।
আলোচনা শেষে দোয়া-মোনাজাত করেন মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই বাবার কবরের পাশে আমার মাকে দাফন করতে পেরেছি।
মায়ের স্মৃতিচারণ করে সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই মায়ের জীবনযুদ্ধ ও ত্যাগ শুরু। সুফিয়া কামাল যখন মহিলা পরিষদ গঠন তখন মা তার সঙ্গে ছিলেন। মা মারা যাওয়ার ৭/৮ মাস আগে একদিন আমাকে বলল বাবা ৬৬, ৬৭, ৬৯ ও ৭০ এ আন্দোলন করেছি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছি। এছাড়া তোমার বাবার যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেটাতেও আমি সহযোগিতা করেছি। তোমার বাবার পাশে আমাকে কবর দিও।’
আরও পড়ুন: বিসিবি পরিচালকের মায়ের ইন্তেকাল
সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন, ‘আমার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ মারা যাওয়ার পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের বিশেষ জায়গায় তাকে দাফন করা হয়েছে। ওই জায়গায় দাফন হওয়া কোনও ব্যক্তির ওয়ারিশ মারা গেলে তাকে দাফন দিতে বিধি-নিষেধ রয়েছে। মা মারা যাওয়ার তার শেষ ইচ্ছাটির কথা আমার মনে পরে। বাবার পাশে মাকে যাতে দাফন করতে পারি সে বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ব্যর্থ হই। এরপর আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করে মায়ের শেষ ইচ্ছাটির কথা জানালাম। ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার সামরিক সচিবকে বিষয়টি বললেন।’
ববি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাসায় ফেরার পথেই যারা আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল তারাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। এরপর বাবার কবরের পাশে আমরা মাকে দাফন করি। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের কারণেই মাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করতে পেরেছি। এ জন্য আমি ও আমার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’
ববি বলেন, ‘একসময় আবাহনীর ক্রিকেট টিমের অবস্থা ভালো ছিল না। কষ্ট করে চলতে হত। তখন মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাজার থেকে মাংস ও অন্যান্য জিনিস কিনে এনেছি। মা ভোরবেলা সেগুলো রান্না করে দিতেন। আর আমি ডেকচি বোঝাই করে রিকশায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতাম। তা দিয়ে খেলোয়াড়রা দুপুরের খাবার খেতো। আমার বাবার পাশে মা ছিলেন বলেই বাবা নিশ্চিন্তে রাজনীতি করতে পেরেছেন।’








