বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তার দায়িত্বে র্যাব, পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটের দিন দায়িত্বে থাকবেন তিন হাজারের মতো বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্তকর্তারা।
এ বিষয়ে বরিশালের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং অফিসার হেলালউদ্দিন খান জানান, ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি কেন্দ্রে আসবাবপত্র সংকট থাকায় তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিনসহ আগে ও পরে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশনের পক্ষে এ সংক্রান্ত বিশেষ নিদের্শনা আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে দেওয়া হয়েছে।
২৮ জুলাই থেকে নির্বাচনের দিন ৩০ জুলাই এবং পরের দিন ৩১ জুলাই পর্যন্ত নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে ৩০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। এছাড়াও বরিশাল সিটি করপোরশন নির্বাচনে নির্বাচনি অপরাধ বিচারার্থে আমলে নেওয়া এবং তা সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য ৯ জন বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) হাকিম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে পরের ২ দিন পর্যন্ত ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও নির্বাচন এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
র্যাব-৮৩০টি টিম, ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্যদের ৩০টি টিম, পুলিশের ৩০টি টহল টিম, ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে কাজ করবে।
হেলাল উদ্দিন জানান, নির্বাচন কমিশন ভোট কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ এ দুই ভাগে ভাগ করেছেন। প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্ত্বার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী। এর মধ্যে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও ৫ জন পুলিশ সদস্য। তিনজন আনসার সদস্য এবং একজন পিসি ও দুইজন এপিসিসহ সাধারণ ১২জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য। এর মধ্যে ৫ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ সদস্য কাজ করবেন। পিসি ও এপিসিরা সশস্ত্র আর বাকিরা থাকবেন লাঠি হাতে। অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সাধারণের থেকে ২ জন পুলিশ সদস্য বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে দেওয়া হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার নাছির উদ্দিন মল্লিক বলেন,গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নত করার কাজ চলছে। দুই একদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে তালিকা দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, ১৯ জুলাই থেকে ভোট গ্রহণের আগের, ভোটের ও পরে দুই দিনসহ মোট চারদিন অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য বিচার বিভাগীয় হাকিমদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।







