বরিশাল জেলার ৬টি আসনের মধ্যে বিপরীত চিত্র বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের। পাঁচটি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগের পাহাড় থাকলেও এ আসনে সেই অভিযোগ নেই। তাছাড়া বরিশালের আর পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর প্রচার চোখে পড়লেও বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার তেমন নেই বললেই চলে।
বরিশাল-৩ আসনে মহাজোট থেকে ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান এমপি শেখ টিপু সুলতানকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলেও মাঠে রয়েছেন শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। এ কারণে মহাজোট আসনটি উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় অংশ আতিকের প্রচারে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরাও। মহাজোটের দুই টিপুর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নেই বললেই চলে। এ কারণে ওই আসনে আতিকের প্রচারেও সব প্রার্থীর চেয়ে বেশি।
এ আসন থেকে গত নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ টিপু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গোলাম কিবরিয়া টিপু। সেখানে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জয়নুল আবেদীন এলাকায় এসে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছেন। বরিশালের ৫টি আসনের বিএনপি প্রার্থীরা প্রচারে বাধা ও গণগ্রেফতারের অভিযোগ করলেও এ আসনের প্রার্থীর সেই অভিযোগ নেই। কোনোরকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রচার চালিয়েছেন বলে জানান ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন। এমনকি প্রচার শুরুর পর থেকে সেখানে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। এ আসন থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান। তার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন জয়নুল আবেদীন। এ কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রচার ধেতে ধারণা করা হচ্ছে এই আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তাছাড়া ওই তিন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারনা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন বর্তমান এমপি শেখ টিপু। অভিযোগ রয়েছে, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটে শেখ টিপু নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি এলাকার তেমন কোনও উন্নয়ন করেননি। এমনকি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনও সখ্যতা ছিল না। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে হতদরিদ্র টাকা আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগ। এ কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না ওই প্রার্থী। আর ওই আসনে ওয়াকার্স পার্টির নেতাকর্মী হাতেগোনা মাত্র।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এ আসনে ওই চার প্রার্থী প্রচার চলছে এক রকম প্রতিযোগিতার মধ্যে। মুলাদী-বাবুগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম প্রচারে মুখর। ব্যাপক প্রচার থাকলেও নেই কোনও সহিংসতা। এখন পর্যন্ত কোনও প্রার্থী কোনও ধরনের অভিযোগ করেননি। আর ওই চার প্রার্থীর সঙ্গে প্রচার মাঠে রয়েছেন চরমোনাই অনুসারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ও বিকল্পধারার এনায়েত কবির।
মুলাদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সত্তার জানান, ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তেমন একটা বাধা বিঘ্ন না থাকলেও গত দু’দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশ হানা দেওয়া শুরু করেছে। এ কারণে প্রচার কিছুটা হলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। নৌকার প্রার্থী শেখ টিপু সুলতান এবং লাঙ্গলের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর দাবি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ মহাজোটের শরিক দলের নেতাকর্মীরা তাদের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক দুলাল বলেন, ‘এটা যার যা ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে মহাজোটের প্রার্থী উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও দল থেকে কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। তাছাড়া বরিশাল বিভাগের রাজনৈতিক অভিভাবক হচ্ছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এখানকার নেতাকর্মীরা।’
মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান মিঠু খান এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।








