বরগুনার বামনায় সাংবাদিক মিজানুর রহমান টিপুর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হেমায়েত হোসেন মোল্লা তাকে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে টিপুর অভিযোগ।
সাংবাদিক মিজানুর রহমান টিপুর অভিযোগ, রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বামনা উপজেলা শহরের সদর রোডে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। তিনি প্রথমে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান।
ডা. হাসান জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাংবাদিক টিপুর নাক ও চোখের আঘাতের কারণে তাকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
টিপু দৈনিক আমাদের সময়’র বামনা প্রতিনিধি ও দৈনিক মানবজমিন’র বরগুনা প্রতিনিধি।
ছাত্রলীগ নেতা হেমায়েত বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের মৃত আ. রহিম মোল্লার ছেলে।
বামনা থানার ওসি জিএম শাহ-নেওয়াজ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাংবাদিক মিজানুর রহমান টিপু জানান, ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় বরগুনা ডিসি অফিসের স্পিডবোট চালক মো. জব্বার খানকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হয়। পরে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। তাদের তদন্তে আরও ১২ জন আসামির নাম আসে। পুলিশ ওই ১২ আসামির নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে। এদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি হেমায়েত হোসেন মোল্লা ৮নম্বর আসামি ছিল। চার্জশিটে নাম ওঠার পরে সব আসামি গা ঢাকা দেয়। ২০১৭ সালের ১০ জুন হেমায়েত হোসেন মোল্লা স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের সঙ্গে বামনা আসমাতুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টিতে ঢাকা থেকে বামনা ও পাথরঘাটায় আসেন। ঘটনায় পরের দিন দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘খুনের আসামিকে নিয়ে সাংসদের ইফতার’ শিরোনামে সংবাদ ছপা হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকেসহ অনেক সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন হেমায়েত। এরপরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে তাকেসহ অন্য সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন হেমায়েত।
সাংবাদিক টিপু অভিযোগ করেন, ‘রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে হেমায়েত হোসেন মোল্লা আমাকে ফোন করে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যেতে বলেন। সেখানে গেলে আচমকা আমার ওপর হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি মারে। একপর্যায়ে আমাকে বাজারের সড়কে ফেলে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটায়। ব্যবসায়ী মো. শাহিন আকন তাকে বাধা দিলে তাকেও আহত করা হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক ও হেমায়েত হোসেন মোল্লার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বামনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ওবায়দুল কবির আকন্দ দুলাল জানান, এভাবে চলতে থাকলে সাংবাদিকরা কখনও সত্য সংবাদ প্রকাশ করতে পারবে না। এ ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বামনা সাংবাদিকরা কঠোর কর্মসূচি দেবে।








