গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়ম আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। নিয়োগ ও ঠিকাদারি কাজে আমাকে কোনও কমিশন দিতে হবে না। উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে করতে হবে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও মাদক, এই চারটি বিষয় থেকে আমাদের দলমত নির্বিশেষে দূরে থাকতে হবে।
শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল ১১টায় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৬তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই বিদ্যালয়েই শ. ম. রেজাউল করিম ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। বক্তব্যে শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মন্ত্রী। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ হোসেন বুলু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
রেজাউল করিম বলেন, ‘কোনও দিন আমার দ্বারা কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না। এ বিষয়টি আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি। অন্যের ক্ষতি করে আমার লাভ হবে এমন চিন্তা আমার মাথায় নেই। হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ মিলে আমরা ভালো থাকতে চাই।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ যদি আমার নাম করে কোনও অনৈতিক সুবিধা বা কমিশন নেওয়ার চিন্তা করে সেটা প্রতারণা করা হবে। এ বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন। টিআর, জিআর, কাবিখা ও ৪০ দিনের কর্মসূচি গরিবদের হক। জনপ্রতিনিধিরা কেন এখান থেকে কমিশন নেবেন। এই অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘কোনও মানুষের মধ্যে যদি শিক্ষার আলো না থাকে, চরিত্র ভালো না হয়, তবে সে আর মানুষ থাকে না। আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলি।’
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘পিরোজপুরে সরকারি হাউজিং এস্টেট করা হবে। যার ৬০ ভাগ সুবিধা পাবে পিরোজপুর জেলার মানুষ। আর দেশের অন্যান্য জেলার মানুষ পাবে ৪০ ভাগ সুবিধা।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পিরোজপুরে ইকোনমিক জোন করা হবে। পিরোজপুর ও নাজিরপুরে বিসিক শিল্পনগরী করা হবে। পিরোজপুর-১ আসনের (পিরোজপুর সদর-স্বরূপকাঠি-নাজিরপুর) তিনটি উপজেলার মধ্যকার যাতায়াতে কোনও নৌ-পারাপার থাকবে না। ইতোমধ্যে দুর্ভোগ লাঘবে সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’
রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের বলেছি, তোমরা আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে লেখাপড়া করলেও ওখানে স্থায়ী হওয়ার চিন্তা করবে না। সব সময় অস্তিত্বের শেকড়ের কথা মনে রেখে চলবে। ঈদ উৎসবে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোরমা-পোলাও খাওয়ার চেয়ে গ্রামে ফিরে এসে জমিতে কাজ করা ও একজন দোকানদার বাল্যবন্ধুর সঙ্গে কোলাকুলি করার আনন্দ অনেক বেশি।’
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তাঘাট সম্প্রসারণে আমাদের সবাইকে ছাড় দিয়ে চলতে হবে। রাস্তা চওড়া করতে হলে কারও বাড়িঘর বা জায়গা-জমি ছাড় দিতে হতে পারে। উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের এ বিষয়ে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।’
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজী আকতার, পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বনাথ বনিক, পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম বেলায়েত হোসেন, মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।
এর আগে মন্ত্রী পুলিশের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য পিরোজপুরের নাজিরপুর থানায় একটি নতুন পিকআপ ভ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এ সময় পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








