ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় দেশের সর্ব দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় বরগুনার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ প্রস্তুতি সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন, সিভিল সার্জন হুমায়ুন খান শাহিন, জেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি মোতালেব মৃধা, প্রেসক্লাব সভাপতি চিত্ত রঞ্জন শীল, পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু। এসময় রেডক্রিসেন্ট ও দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচিসহ (সিপিপি) বরগুনার সব সরকারি, বে-সরকারি এবং সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা।
বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন,‘ইউনিয়ন,উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মিটিং করে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগদ অর্থ, টিন, চাল, শুকনো খাবারসহ বরগুনায় ৩৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে ৪২টি মেডিক্যাল টিম।’
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল খোলা হয়েছে। সব সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী আরও ঘনীভূত হয়ে বাংলাদেশের দিকে এগুচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ মে) আবহাওয়া বিভাগের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ফণী উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার (৩ মে) বিকাল নাগাদ ভারতের ওড়িষা ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের মতে, ঝড়ের যে গতিপথ সে অনুযায়ী খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ফণী।
আবহাওয়া বিভাগ জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে ফণী এগিয়ে আসায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোক ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোক ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।








