ফেসবুকে খাঁচায় মাছ চাষের (বায়োফ্লক) পদ্ধতি আকৃষ্ট করে বরিশালের বানারীপাড়ার সুলতান হোসেনকে। এরপর তিনি এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। অন্যের পতিত জমি লিজ নিয়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে তিনি সফল। তার সফলতা দেখে অনেক বেকার যুবক খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেছেন।
সুলতান বলেন, ফেসবুকে বায়োফ্লক পদ্ধতি দেখে দেশি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের যৌথ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথমে পতিত জমিতে দু’টি খাঁচা বানিয়ে তাতে মাছের পোনা ছাড়েন। এখন তার বেশ কয়েকটি খাঁচা রয়েছে। প্রথম চালানে ৬০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। শিগগিরই তিনি আরও মাছ বিক্রি করবেন। তিনি ২ লাখ টাকার শিং মাছ, ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কৈ মাছ, এক লাখ টাকার তেলাপিয়া, এক লাখ টাকার ট্যাংরা এবং ২ লাখ টারা পাবদা মাছ বিক্রির আশা করছেন।
তিনি বলেন, চার মাস আগে সাড়ে তিন ফুট উঁচু এবং ১০ ফুট গোলাকৃতির চারটি খাঁচা তৈরি করেন। খাঁচাগুলো ওয়াটার প্রুপ ত্রিপল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। প্রতিটি খাঁচা তৈরি করতে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি খাঁচায় ৫ হাজার করে শিং, কৈ ও তেলাপিয়া এবং একটিতে মাগুর, পাবদা, সিলন ও ট্যাংরা মাছের ২০ হাজার করে পোনা ছাড়া হয়। একটি খাঁচায় বছরে ২-৩ বার মাছ চাষ করা সম্ভব। এতে মাছের উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভও বেশি হয়। এ পদ্ধতিতে মাছের খাবার কম লাগে এবং অসুখ না হওয়ায় চাষিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না।
মাছ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে সুলতান বলেন, মাছ চাষের আগে প্রতিটি খাঁচায় চুন, লবণ, চিটাগুড় ও প্রবাইটিক দিয়ে সাত দিন পর্যন্ত পানির কালচার (মিশ্রণ) করতে হবে। এরপর খাঁচায় স্থানীয় জাতের শিং, কৈ, মাগুর, পাবদা, সিলন ও ট্যাংরা মাছ চাষ করা যাবে। প্রতিটি খাঁচার মধ্যে মাছের সাইজ অনুযায়ী পরিমিত খাবার দিতে হবে। প্রতি তিন-চার মাস পর একটি খাঁচায় ৭-৮ মণ মাছ উৎপাদন করা যাবে।
এভাবে মাছ চাষ শুরুর পর সুলতান তার ফেসবুকে ছবি দেন। স্বল্প পুঁজিতে বেশি হওয়ায় অনেক বেকার যুবক এভাবে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঢাকা, রাজশাহী, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেকার যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সুলতান সবাইকে বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এছাড়া মাছ চাষের জন্য খাঁচা তৈরি করতেও সহায়তা করছেন তিনি। অনেকে খাঁচা তৈরি করে দেশি মাছ চাষ শুরু করেছেন।
বেকার যুবকদের দাবি, সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিলে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে দেশীয় মাছ চাষ দেশে ছড়িয়ে পড়বে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাইদ বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ লাভজনক হওয়ায় তা চাষি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সহায়তা করা হবে।








