পটুয়াখালীতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে ১৯ দিনে ২০০ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ নিষেধাজ্ঞা সফল করতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও বঙ্গোপসাগরের ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
২৮ অক্টোবর সোমবার সকালে জেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, ৯ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ১৯ দিনে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২০০ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫৫টি মোবাইল কোর্ট, ৩১১টি অভিযান, ৩ লাখ ৬১৬ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দসহ ৩৮ লাখ ৮১ হাজার ৩০০ মিটার জাল আটক করা হয়েছে। যার মূল্য ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এছাড়াও ৩৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ পদ্মায় ডিম ছাড়তে আসে। সরকার এ ২২ দিন ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, মজুত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা অভিযানে অংশ নিচ্ছে পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, র্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ।
কলাপাড়া উপজেলার ফিসিং ট্রলার মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক জানান, আমরা অবরোধের সময় সাগরে ও নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু ভারতীয় জেলেরা ঠিকই মাছ ধরে নিয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমাদের যে জেলেগুলো মাছ শিকার করছেন তারা পেটের দায়ে বা লোভে পরে নদীতে নামছেন।
জেলে মান্নান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় আমাদের ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি, তাই ওই সহায়তায় আমাদের ১০ দিনও চলে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের সহায়তার আরও বৃদ্ধি করা হোক।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ জানান, সরকারের মাছ শিকারের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে কার্যকর করার জন্য প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বরিশালে এ বিষয়ে একটি সেমিনার হয়েছে সেখানে আমরা জেলেদের সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। এছাড়াও সেখানে জেলেদের চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের জেলেরা যাতে সাগরে মাছ শিকার করতে না পারে সে জন্য কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানো উচিৎ। এখন প্রচুর পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তাই কিছু অসাধু জেলে লোভে পড়ে মাছ শিকার করছেন। এ ব্যাপারে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।







