আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ সংগঠনে চলছে শুদ্ধি অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় দলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে কেন্দ্রীয় কমান্ড। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, বরগুনার ৬টি উপজেলার দু’টিতে ১০ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর সন্তানসহ আরও অনেক রাঘববোয়াল রয়েছেন, যারা এই তালিকায় বাদ পড়েছেন। তাই বরগুনার ৬টি উপজেলায় যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের দাবি তাদের।
অনুপ্রবেশকারীর তালিকায় বরগুনার নেতারা হলেন−তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলম কবির, একই উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক হাওলাদার, বামনা উপজেলার কর্মী আজমল খান, জাকির হোসেন চৌধুরী, মোস্তফা কামাল, গোলাম মোস্তফা বাবুল সিকদার, গোলাম মাওলা হানিফ, তাসলিমা, খাদিজা বেগম ও আবদুর শুক্কুর জমাদ্দার। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।
তালিকায় থাকা আজমল খান বলেন, ‘আমি একসময় বিএনপি করতাম এটা সত্য। কিন্তু বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখে আমি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করি। আমি পদ-পদবি চাই না। এরপরও যদি দল মনে করে আমাকে আওয়ামী লীগে রাখবে তাহলে থাকবো। আর যদি মনে করে রাখবে না তাহলে দলে থাকবো না।’
তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, ঠিকভাবে শুদ্ধি অভিযান চালালে রাজাকার পুত্রসহ ঘাপটি মেরে বসে থাকা অনেক রাঘববোয়াল যারা দলকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন তারা বেরিয়ে আসবেন। বরগুনার ৬টি উপজেলার মধ্যে মাত্র দু’টির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আশা করছি বাকি ৪টি উপজেলায়ও অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করা হবে। সেইসঙ্গে আগামী কাউন্সিলে যাতে আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধীদের কোনও সন্তান দলীয় পদ-পদবি না পায়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মারুফ মৃধা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে সব ধরনের কমিটি সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত-শিবিরের উত্তরাধিকার মুক্ত করে পুনর্গঠন করা সময়ের দাবি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী বলেন, ‘যেখানে যুদ্ধাপরাধীর সন্তান দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়, সেখানে আমরা কতটা নিরাপদ? দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে, আমাদের দাবি থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী মুক্ত করবেন। ১ ডিসেম্বর বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে যাতে কোনও যুদ্ধাপরাধীর সন্তান স্থান না পায়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে কঠোর নির্দেশনা আশা করছি।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, ‘যে তালিকাটি প্রকাশিত হয়েছে তা কতটা যথাযথ সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে আমাদের অবহিত না করা পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে কেন্দ্র অবহিত করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তৃণমূলের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি একেবারেই অমূলক নয়। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখতে হবে। সামনেই দলীয় কাউন্সিল রয়েছে, সেখানে অনুপ্রবেশকারী ও যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তানদের কোনও পদ-পদবি দেওয়া হবে না।








