একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রথম পর্বের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় যুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন বরগুনা মহকুমার পাথরঘাটা থানা আহ্বায়ক মো. মজিবুল হকের নাম রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বরগুনার সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মজিবুল হক মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন বরগুনা মহকুমার সদস্য ছিলেন। ছিলেন পাথরঘাটা থানা কমিটির আহ্বায়ক। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রিলিফ কমিটির পাথরঘাটা থানার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তৎকালীন পাথরঘাটা থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাথরঘাটা-বামনা আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনও করেছেন।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আ. রশিদ বলেন, ‘মজিবুল হক একজন সৎ মানুষ। তিনি পাথরঘাটা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। কীভাবে রাজাকারের তালিকায় তার নাম এসেছে আমি বলতে পারবো না। প্রশাসন আমাদের কাছে একটি রাজাকারের তালিকা চেয়েছিল। আমরা তখন একটি তালিকা দিয়েছিলাম। সেখানে তার নাম দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল বলেন, ‘রাজাকারের তাকিলায় মজিবুল হকের নাম আসাটা দুঃখজনক। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মজিবুল হকের ছেলে অ্যাডভোকেট রেজাউল হক শাহিন বলেন, ‘আমার বাবা একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। তিনি পাথরঘাটা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। এমনকি তৎকালীন বরগুনা মহকুমার সংগ্রাম পরিষদের সদস্যও ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় পাথরঘাটা থানা রিলিফ কমিটির দায়িত্বও পালন করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে বাবা কীভাবে রাজাকার হয়ে গেলেন আমরা বুঝতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন ও মনগড়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই তালিকা প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি।’
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রাজাকারের তালিকার বিষয়ে আমরা অবগত নই। তাই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করাও ঠিক হবে না।’








