বরিশালে ৩ দিনব্যাপী পৌষমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মেলায় পিঠা-পুলি উৎসব, গ্রামবাংলার বিলুপ্ত প্রায় সংস্কৃতি এবং হস্তশিল্পের সমাহার ঘটানো হয়। আয়োজকরা বলছেন আকাশ সংস্কৃতিতে আসক্তদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিতি ঘটাবে এই পৌষমেলা।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে পৌষমেলার উদ্বোধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন এবং সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। নগরীর জগদিশ সারস্বত স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের উদ্যোগে পৌঁষ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় পিঠা-পুলি উৎসব, গ্রামবাংলার বিলুপ্ত প্রায় সংস্কৃতি এবং হস্তশিল্পের সমাহার ঘটানো হয়। উদ্বোধনী দিনে শিশুদের চিত্রাঙ্কনেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান গ্রাম বাংলার চিত্র।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, পৌঁষমেলাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি পৃথিবীর বুকে উদ্ভাসিত হবে। জেলা রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ জানান, দেশের নতুন প্রজন্ম আকাশ সাংস্কৃতিতে আসক্ত। তারা গ্রামীণ ঐতিহ্য পৌষমেলা, পিঠা-পুলির সঙ্গে পরিচিত নয়। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই মেলার একমাত্র উদ্দেশ্য।
৩ দিনব্যাপী মেলায় গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া পল্লীগীতি, ভাটিয়ালী, লালনগীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতিসহ আবহমান বাংলার সকল সাংস্কৃতিক আয়োজন রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে ২৫টি স্টল রয়েছে। এতে দেশীয় বিভিন্ন ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প ও পণ্য মেলায় স্থান পেয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে গ্রামীণ সংস্কৃতির সমাহার ঘটানো হবে। মেলায় আগতরা জানান, শহরের ব্যস্ত জীবনে পৌষমেলার আয়োজন কিছুটা হলেও গ্রামীণ সাংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তারা আগামীতে আরও বড় পরিসরে মেলা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।







