পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফিরোজা নাসরিন (৫৬) নামে এক বৃদ্ধা মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে তামান্না জেবীন রুমানা (২৮)। সে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের উত্তর কলেজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ খবর পেয়ে ওই বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রুমানাকে পুলিশ আটক করেছে। নিহত বৃদ্ধা ফিরোজা নাসরিন মঠবাড়িয়া পৌর শহরের কলেজ পাড়ার সাবেক অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মৃত হেমায়েত উদ্দিন হাওলাদারের স্ত্রী। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, ফিরোজা নাসরিন তার স্বামীর মৃত্যুর পর এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। ছেলে রিয়াজ বিয়ে করে শহরের হাসপাতাল এলাকায় আলাদা বাসা নেন। অপরদিকে মেয়ে রুমানার গত ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় সে মায়ের সঙ্গে থাকতো। সম্প্রতি রুমানা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। গত মঙ্গলবার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হলে রুমানা বাসায় ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ভাই রিয়াজ বাসায় এসে বোনকে শান্ত করে। বুধবার সকালে ভাই রিয়াজ বাসায় এসে বোনের জন্য ঔষধ কিনতে বাজারে যান। এসময় বাসায় মা ও বোন ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে রুমানা উত্তেজিত হয়ে বটি দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
নিহত বৃদ্ধার ছেলে রিয়াজ উদ্দিন জানান, তিনি বোনের জন্য ঔষধ কিনতে গেলে বাসায় ফিরে দেখেন রুমানা বিছানায় নিস্তেজ আর রান্নাঘরে মায়ের রক্তাক্ত লাশ।
ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক রুমানাকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় নিহতের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে রুমানাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।’








