কোসিং বাণিজ্য এবং ইচ্ছামতো রুটিন তৈরি করে ক্লাস নেওয়ার প্রতিবাদ করায় সহকারী শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ জগদীশ সারস্বত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। শাহ আলম নামে ওই প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, কাওসার হোসেনসহ ৩-৪ জন সহকারী শিক্ষক তাকে লাঞ্ছিত করেছেন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘চার জন খণ্ডকালীন শিক্ষকসহ ২১ জন শিক্ষক স্কুলে কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় তৃতীয় ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের চাপ দিয়ে ক্লাস চলাকালীন স্কুলের ভেতরে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে এভাবে কোচিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টিতে বাধা দিতে গেলে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাব খাঁটিয়ে স্কুলের ধর্মশিক্ষক এমদাদুল আব্দুল ইংরেজি ও গণিত বিভাগের ক্লাস নেন। কৃষি শিক্ষার শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি গার্হস্থ্য বিষয়ের ক্লাস নেন। স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় ১৯৯০ সাল থেকে তিনি এখানে চাকরি করে যাচ্ছেন। যুব মহিলালীগ নেত্রী নেহার বেগম সহকারী লাইব্রেরিয়ান হয়েও কোচিং করান ইংরেজি ও গণিতের।
প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘২০১৭ সালে যোগদানের পর থেকে দেখছি, এখানে শিক্ষকদের স্কুলে আসা-যাওয়ার কোনও নিয়ম-নীতি নেই। নেই কোনও শৃঙ্খলা। এসব কাজে বাধা দেওয়ার পর থেকেই কয়েকজন শিক্ষক একজোট হয়ে আমাকে প্রায়ই অপমান করে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করাসহ শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও সাবেক কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনও সুফল পাইনি।’
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক কাওসার হোসেন বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত তুলিনি। তবে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কমিটির একজন সভাপতি নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘স্কুলটিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে, মেয়েরা এখানে ভর্তি হতে চায় না। তাছাড়া স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার চেয়ে কোচিং ব্যবসা নিয়ে শিক্ষকদের মাথা ব্যথা বেশি। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেক শিক্ষক আমার ওপর ক্ষুব্ধ হওয়ায়, আমি কমিটি থেকে বেরিয়ে আসি।’








