পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন গ্রামে প্রাকৃতিক বনায়নের গাছ কেটে উজাড় করছে বনদস্যু চক্র। প্রশাসনের অগোচরে এই গাছ কাটা হচ্ছে। ওই চক্রের দাবি, এসব গাছ কোনও বনায়নের নয়। টাকার বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানার (রেকর্ডি) জমির গাছ কাটছে তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চরবেষ্টিন বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ (পূর্বাংশ) ঘেঁষে দুই কিলোমিটারজুড়ে প্রাকৃতিক বনায়ন। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৫ বছরে এই বন গড়ে উঠেছে। বনে আছে ছইলা ও কেওড়াসহ কয়েক প্রজাতির হাজার হাজার গাছ। তবে বেড়িবাঁধ রক্ষার এই বনের ওপরে কুনজর পড়েছে বনদস্যুদের।
সচেতন মহলের দাবি, বন থাকার কারণে বেড়িবাঁধটি টেকসই আছে। এটি বেড়িবাঁধের রক্ষাকবজ। কিন্তু বন না থাকলে বেড়িবাঁধের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকিতে পড়বে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাসে আগে প্রথম দফায় এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে দ্বিতীয় দফায় চরবেষ্টিনের ওই বনায়নের দুই শতাধিক ছইলা ও কেওড়া গাছ কেটে উজাড় করছে একটি বনদস্যু চক্র। এর নেপথ্যে আছে জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি চরবেষ্টিনের গাছ ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ পরিচিত। তার নেতৃত্বেই বনায়নের গাছ উজাড় করা হচ্ছে। গাছ কাটার সহায়ক হিসেবে জাহাঙ্গীর একটি সিন্ডিকেট গড়েছেন। পেছন থেকে ওই সিন্ডিকেট তাকে সহায়তা করছে।
অভিযুক্ত গাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ওটা রেকর্ড সম্পত্তির ভেতরে। বন বিভাগের গাছ এখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে।’ কী পরিমাণ গাছ কাটা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আনুমানিক ২০-২৫টি গাছ কাটছি। অনেক আগে উত্তর পাশদিয়া কিছু গাছ কাটছি, সেখানে ৫০-৬০ পিছ হতে পারে। আমরা জমি মালিক মোকছেদ, সেরাজ হাওলাদারসহ অনেকের কাছ থেকে গাছ কিনছি। আমাদের তো কোনও অপরাধ না। তারা বিক্রি করে আমরা কিনি। তাদের জায়গাটা পরিষ্কার করতে হবে, তাই আমরা অল্প দামে কিনতে পারি। আমরা খুশি হয়ে ২-১ হাজার টাকা দেই তাদের।’
গাছ কোথায় পাঠানো হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা লাকরি করি। বাকেরগঞ্জ, কলসকাঠী, লেবুখালীর ইটভাটায় পাঠাই। আর গাছ পাঠাই স্বরূপকাঠী।’
বেড়িবাঁধের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, জমি মালিকদের অজুহাত দেখিয়ে জাহাঙ্গীর বনের গাছ কাটছে। যাদের নাম বলছেন, তারা অনেকে জানেও না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৮৯ সাল থেকে প্রাকৃতিক বনের গাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবুও এভাবে প্রকাশ্যে প্রাকৃতিক বন উজাড় করা হচ্ছে।
এ বিষয় বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জের চরবেষ্টিন ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদ খান বলেন, ‘যদি রেকর্ডি সম্পত্তির ভেতরে বন হয়ে থাকে তাহলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দরখাস্ত করবে। সেখান থেকে আমাদের মতামত চাইতে পারে যে, আমাদের কোনও আপত্তি আছে কিনা। এরপর আমরা সরেজমিনে দেখে প্রতিবেদন দেবো। তবে ওখানে গাছ কাটার ক্ষেত্রে কেউ আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের রেকর্ড কিংবা গেজেটভুক্ত জায়গা না। যদি খাস খতিয়ানে হয়ে থাকে তাহলে সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসনের জায়গা। এটা দেখভালের দায়িত্ব এসিল্যান্ডের। ওখানে প্রাকৃতিকভাবে কোনও গাছ জন্ম থাকলে সেটা দেখভালের দায়িত্ব প্রশাসনের।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








