বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বেলুহার গ্রামের একটি বাসার ফ্রিজ থেকে মানবশিশুর ভ্রূণ উদ্ধার করে তা মাটি চাপা দিয়েছে পুলিশ। ভ্রূণটি গর্ভপাতের কথা শিখার করেছেন একই গ্রামের সুমাইয়া আক্তার। স্বামী ভরণপোষণ দেয় না বলে ভ্রূণটি নষ্ট করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে এটি প্রতিবেশী নিলুর ঘরের ফ্রিজে রাখেন তিনি। তবে পুলিশ বলছে, একবছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়েছে।
প্রতিবেশী নিলু বলেন, ‘গত বুধবার বিকালে ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য সুমাইয়ার রাখা প্লাস্টিকের কৌটা নিয়ে যেতে বলি। সুমাইয়ার আসতে দেরি দেখে কৌতুহলবশত কৌটা খুলে তার মধ্যে মানবভ্রূণ দেখতে পাই।’ বিষয়টি নিলু বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে সুমাইয়াকে খবর দেন।
ওই সময় ভ্রূণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সুমাইয়া প্রথকে বিড়ালের বাচ্চা বলে জানালেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নিজের গর্ভের ভ্রূণের কথা স্বীকার করেন। তিনি কয়েক মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা হন। গর্ভধারণের ৪-৫ মাস পরে নিজেই গর্ভের সন্তানের ভ্রূণ নষ্ট করেন এবং মৃত অবস্থায় রোজার মাঝামাঝি সময়ে ভ্রূণ প্রসব করেন। এরপর ভ্রূণটি প্লাস্টিকের কৌটায় করে ফ্রিজে রাখেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে ওই ভ্রূণ দেখতে। খবর পেয়ে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভ্রূণটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ভ্রূণ হত্যাকারী সুমাইয়া জানান, তার স্বামী জামাল ভরণপোষণ না দেওয়ায় গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন তিনি। হত্যা করা ওই ভ্রূণটি আদালতে দেখানোর জন্য পাশের বাড়ির ফ্রিজে রেখেছিলেন বলে তিনি জানান।
আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহার ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানতে পেরে এসআই আব্দুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে ভ্রূণটি মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। কোনও অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত তিন বছর আগে উপজেলার বেলুহার গ্রামের সিরাজ ভূঁইয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে পাশের গৌরনদী উপজেলার বিল্বগ্রাম এলাকার সত্তার ঘরামীর ছেলে জামাল ঘরামীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। জামাল ও সুমাইয়ার দাম্পত্য জীবনে একটি শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম নিলেও জন্মের কিছুদিন পরে ওই শিশুটি মারা যায়। গত একবছর আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। বর্তমানে সুমাইয়া তার পিতামাতার সঙ্গে বাস করছেন।









