বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খেজুরিয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতা এবং নির্বাচনে পরাজয়ের জেরে এক ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ভ্যানচালক মোকলেস মিয়া (৫৫) ওই গ্রামের মৃত সফিজউদ্দিন মিয়ার ছেলে। সোমবার (১৫ নভেম্বর) সকালে আগৈলঝাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তানভির, এনামুল ও রফিক ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ১১ নভেম্বর বাগধা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বর পদে বিজয়ী হন আপেল প্রতীকের শামীম মিয়া। ১৩ নভেম্বর চারটি ভ্যানযোগে মেম্বার শামীম খাজুরিয়া থেকে আগৈলঝাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে রওনা হন। তবে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পরপরই পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ইউনুস মিয়ার (টিউবওয়েল) নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভ্যান চারটিতে হামলা চালায়। এতে সাত-আটজন আহত হন। এ সময় আমার বাবা ভ্যানচালক মোকলেসকে বেদম মারধর করা হয়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সোমবার মারা যান। পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ইউনুসের সঙ্গে জমিজমা নিয়েও মেম্বার শামীমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলেও জানান উজ্জ্বল।
নবনির্বাচিত মেম্বার শামীম মিয়া বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইউনুসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ কারণে সে পরাজিত হবে জেনেও আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় পূর্ব শত্রুতা এবং পরাজিত হওয়ায় জেরে দলবল নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় চারটি ভ্যানে থাকা আমার সাত জন সমর্থক আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হন ভ্যানচালক মোকলেস মিয়া। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলার দুই আসামি তানভির ও এনামুল কারাগারে রয়েছেন। সর্বশেষ রবিবার গ্রেফতার করা হয় রফিক ফকিরকে।
তিনি আরও বলেন, হামলা চালিয়ে তারা শান্ত হয়নি। আমাদের বাড়িঘরেও হামলা-ভাঙচুর চালায় ইউনুস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ঘটনায় ইলিয়াস মিয়া ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন।
তবে আগৈলঝাড়া থানার ওসি সরোয়ার হোসেন বলেন, এটা কোনও নির্বাচনি সহিংসতা নয়। মূলত নবনির্বাচিত মেম্বার শামীম মিয়ার সঙ্গে অভিযুক্ত ইউনুসের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শামীমের বহরে হামলা চালায় ইউনুস ও তার অনুসারী। এতে মোকলেস মিয়া গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ১৩ নভেম্বর হামলার পরপরই শামীমের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলা হত্যা মামলায় রূপ নেবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া মামলায় এজাহারভূক্ত আসামিরা হত্যা মামলার আসামি এবং যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদেরকেও হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দেখানো হবে। সর্বশেষ গত রবিবার গ্রেফতার করা হয় রফিক ফকিরকে। এজাহারভূক্ত অপর আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।









