X
সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

সার্ভারে আটকে গেছে শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:৪৫

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সার্ভার জটিলতায় জন্মনিবন্ধন সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন স্কুলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। সন্তানের জন্মনিবন্ধনে মা-বাবার জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় তা দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে গেছে। সেই সঙ্গে আটকে গেছে শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন।  

আগামীকাল বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় ভর্তির আবেদনের শেষ সময়। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টা পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন পেতে বিসিসির বিভিন্ন দফতরে দৌড়ঝাঁপ করেও কোনও প্রতিকার পাননি অভিভাবকরা।

গত ১৬ নভেম্বর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর স্কুল থেকে ভর্তির ফরম বিক্রি করা হবে না। ভর্তির আবেদন ফরম শুধু অনলাইনে পাওয়া যাবে। নতুন নিয়মে ভর্তির আবেদন করতে শিক্ষার্থী কিংবা ভর্তির আবেদনকারীর জন্মনিবন্ধন জরুরি। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ঘোষণার পরপরই বিসিসিতে জন্মনিবন্ধনের আবেদনের হিড়িক পড়ে। 

বিসিসির জন্মনিবন্ধন শাখার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের বেশির ভাগই স্কুলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের।

আবেদনের পর থেকে তিন ভাগের একভাগেরও জন্মনিবন্ধন সরবরাহ করতে পারেনি বিসিসি। এ জন্য প্রতিদিন অভিভাবক এবং তাদের প্রতিনিধিরা ধরনা দিচ্ছেন জন্মনিবন্ধন শাখা নগরীর অ্যানেক্স ভবনে। সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মকর্তারা জানান, ভিড় করবেন না; সার্ভার কাজ করছে না। সার্ভার সচল হলেই আপনাদের জন্মনিবন্ধন সরবরাহ করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের উত্তপ্ত মেজাজও দেখতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। এ নিয়ে বেশি প্রশ্ন করলে রেগে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেউ কেউ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিয়ে সুপারিশও করেছেন। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক সুপারিশ যাচ্ছে সেখানে। কেউ কেউ সশরীরে উপস্থিত হয়ে জন্মনিবন্ধন কর্মকর্তাকে মোবাইল ধরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। জন্মনিবন্ধন না পেলে সন্তানকে সরকারি স্কুলে ভর্তিও করাতে পারবেন না তারা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, বিশেষ করে এ বছর ভর্তি পরীক্ষা থাকছে না। লটারিতে টিকলেই ভর্তি হতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে কেউ কেউ দ্বিতীয় শ্রেণিতে ওঠা শিশুকেও এ বছর তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করাতে চান। এ জন্য যেকোনও উপায়ে আবেদন করে ভাগ্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে চান অভিভাবকরা। ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে প্রাইভেট পড়া থেকে শুরু করে অনেক খরচ। তা থেকে রক্ষা পেতে অভিভাবকরা লটারিতে সন্তানকে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করিয়ে দিতে চাচ্ছেন।

ছেলে শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ বরিশাল জিলা স্কুল এবং মেয়েদের সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। এরপর পছন্দের তালিকায় রয়েছে সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও সরকারি আরজু মনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

প্রথম দুটি বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে চান অভিভাবকরা। কিন্তু এ বছর ভর্তিতে কে কোথায় সুযোগ পাবে, তা কেউ বলতে পারছে না। কারণ আবেদনে পছন্দের তালিকায় পাঁচ স্কুলকেই রাখতে হচ্ছে তাদের। লটারির পর মোবাইলে মেসেজ দিয়ে জানানো হবে কে কোথায় সুযোগ পেলো।

আগামী বছর এ ধরনের সুযোগ নাও থাকতে পারে। এ জন্য অভিভাবকরা তার সন্তানকে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। নগরীর কম্পিউটার দোকানগুলোর অপারেটররা এই আবেদন পূরণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এক শিশুর অভিভাবক রানা আলী নেওয়াজ খান বলেন, নতুন নিয়মে ভর্তি হতে ইচ্ছুক যেসব শিক্ষার্থীর জন্ম ২০০১ সালের পর তাদের জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে বাবা-মায়ের জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, বেশির ভাগ বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন নেই। যাদের জন্মনিবন্ধন নেই তারাই পড়েছেন বিপাকে। কিন্তু আগে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পয়ের তথ্য দিয়ে সন্তানের জন্মনিবন্ধন করা যেতো। এখন নতুন নিয়ম সন্তানের জন্মনিবন্ধনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন। এতে জটিলতা বেড়েছে। এই সংকট নিরসনের দাবি জানালেন তিনিসহ একাধিক অভিভাবক।

জন্মনিবন্ধন শাখা সূত্র থেকে জানা গেছে, অফিস সময় ৯টা-৫টা। কিন্তু ওই সময় সার্ভারে জন্মনিবন্ধন এন্ট্রি করা যায় না। বারবার চেষ্টা করলেও এন্ট্রি নেয় না। এ অবস্থা গত মাস থেকেই শুরু হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে এন্ট্রি নেয়। এতে চাহিদার খুব স্বল্প সংখ্যক এন্ট্রি করা যায়। কর্মকর্তারা বলছেন, সারাদেশ থেকে অফিসকালীন এন্ট্রির কাজ চলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ বলেন, সার্ভারের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়টি মাথায় রেখে মঙ্গলবার রাতে জন্মনিবন্ধনের কাজ করানো হচ্ছে। আশা করছি, বুধবারের মধ্যে জন্মনিবন্ধন দেওয়া সম্ভব হবে। এতে অভিভাবকদের যে চিন্তা ছিল, তা আর থাকছে না। এ জন্য তাদের অফিসে ভিড় করতে নিষেধ করা হয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল মারুফ বলেন, এরকম সমস্যা হচ্ছে বলে জেনেছি। কিন্তু জন্মনিবন্ধন দেওয়ার কিংবা ভর্তির আবেদনের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ আমাদের হাতে নেই। তারপরও শিক্ষার্থীদের ভর্তির কথা চিন্তা করে মাউশির সঙ্গে কথা বলেছি, আবদেনের মেয়াদ বাড়ানো যায় কিনা। কিন্তু মাউশি থেকে সাড়া মেলেনি। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর সমাধান করবে।

/এএম/
সম্পর্কিত
সম্পাদকের একক স্বাক্ষরে কমিটি, পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত
সম্পাদকের একক স্বাক্ষরে কমিটি, পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত
বরিশালে মহানগর ও জেলায় আহ্বায়ক কমিটি করেছে বিএনপি
বরিশালে মহানগর ও জেলায় আহ্বায়ক কমিটি করেছে বিএনপি
স্ত্রীকে হত্যায় ৫০ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বামী
স্ত্রীকে হত্যায় ৫০ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বামী
গোপালগঞ্জে হত্যা বরিশালে লাশ, পাশে কাঁদছিল ১০ মাসের শিশু
গোপালগঞ্জে হত্যা বরিশালে লাশ, পাশে কাঁদছিল ১০ মাসের শিশু
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সম্পাদকের একক স্বাক্ষরে কমিটি, পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত
সম্পাদকের একক স্বাক্ষরে কমিটি, পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত
বরিশালে মহানগর ও জেলায় আহ্বায়ক কমিটি করেছে বিএনপি
বরিশালে মহানগর ও জেলায় আহ্বায়ক কমিটি করেছে বিএনপি
স্ত্রীকে হত্যায় ৫০ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বামী
স্ত্রীকে হত্যায় ৫০ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বামী
গোপালগঞ্জে হত্যা বরিশালে লাশ, পাশে কাঁদছিল ১০ মাসের শিশু
গোপালগঞ্জে হত্যা বরিশালে লাশ, পাশে কাঁদছিল ১০ মাসের শিশু
টিকা দিতে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে তদন্ত কমিটি
টিকা দিতে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে তদন্ত কমিটি
© 2022 Bangla Tribune