X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

সালিশ বৈঠকে কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের জামিন

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩১

সালিশ বৈঠক ডেকে কিশোরীকে জোর করে বিয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। বুধবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. জামাল হোসেন তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে একইদিন সকালে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। পরে চেয়ারম্যানসহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।  

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আল আমিন হাওলাদার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২৫ জুন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ওই কিশোরীকে (১৪) জোরপূর্বক বিয়ে করেন। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদে বাদীর ভাইকে মারধর করেন তারা। ২১ নভেম্বর আদালতে জমা দেওয়া পিবিআইর তদন্ত প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে আদালত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২২ নভেম্বর সমন জারি করেন এবং আজ বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পরে আজকে দুপুর ১টার পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারসহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন জামিন মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া।

চলতি বছরের ২৮ জুন চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ভিকটিম তরুণের বড় ভাই আল ইমরান নামের এক যুবক। মামলায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বাদীর পরিবারের লোকজনকে মারধর এবং তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ওই কিশোরীর বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। 

বিষয়টি পিবিআই-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পটুয়াখালী পিবিআইর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এম এ সোবাহান খান ২১ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। 

মামলার আসামি হলেন, চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার, তার সহযোগী মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, পলাশ হাওলাদার, সুজন হাওলাদার, মো. নুরুল আমিন বাবু, আবু সাদেক ও কনকদিয়া ইউনিয়নের কাজি মো. আইয়ুব।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বাদীর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ওই কিশোরীর তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গোপনে তারা বিয়েও করে। বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরীর বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় পারিবারিকভাবে তারা বিয়ে করতে পারেনি। কথা ছিল প্রাপ্তবয়স্ক হলে পারিবারিকভাবে বিয়ে করবে। এ নিয়ে উভয়ের পরিবারে টানাহেঁচড়া চলছিল। এর ফাঁকে গত ২৪ জুন প্রেমিক যুগল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এই খবর কিশোরীর বাবা ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। ২৫ জুন সকালে প্রেমিক যুগলসহ তাদের পরিবারের সবাইকে সালিশের জন্য চেয়ারম্যানের বাড়িতে হাজির হতে বলেন। সবাই উপস্থিত হলে সেখানে সালিশ শুরু হয়। সালিশে বাদীর ছোট ভাইকে গালিগালাজ করেন চেয়ারম্যান। এরপর চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন।

মামলার পরে আল ইমরান জানান, একপর্যায়ে সেখান থেকে কিশোরীকে ঘরের ভিতরে নিয়ে যান চেয়ারম্যান শাহিন। পরে লোকমুখে শুনতে পাই, চেয়ারম্যান তার ভাইয়ের প্রেমিকাকে ওই দিনই বিয়ে করেছেন। এ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলে পরদিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান কিশোরীর কাছ থেকে তালাকনামায় স্বাক্ষর নিয়ে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। পরে কিশোরীকে তার প্রেমিকের সঙ্গে জোর করে আবার বিয়ে দেন চেয়ারম্যান ও তার লোকজন।

এ ঘটনার পর চেয়ারম্যান ও তার লোকজন মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ইমরান। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এলাকাছাড়া করার। উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা করি।

/ইউএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আখাউড়ার ইউএনও ও এসি-ল্যান্ডকে বদলি
আখাউড়ার ইউএনও ও এসি-ল্যান্ডকে বদলি
মাংকিপক্স: সতর্ক রয়েছে বিমানবন্দরগুলো
মাংকিপক্স: সতর্ক রয়েছে বিমানবন্দরগুলো
শেয়ালের মাংস বিক্রির অপরাধে একজনের কারাদণ্ড
শেয়ালের মাংস বিক্রির অপরাধে একজনের কারাদণ্ড
বিশ্বে ১০ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত, ‘বিস্ময়কর মাইলফলক’: জাতিসংঘ
বিশ্বে ১০ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত, ‘বিস্ময়কর মাইলফলক’: জাতিসংঘ
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মারা গেছে ভেসে আসা অসুস্থ মা ডলফিন
মারা গেছে ভেসে আসা অসুস্থ মা ডলফিন