পটুয়াখালীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে মারধর করেছেন এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। রবিবার (৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে দুমকী উপজেলার এলজিইডি দফতরে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার দুই জন হলেন- দুমকী উপজেলার এলজিইডির প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন ও একই দফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম। আর অভিযুক্ত ঠিকাদার হলেন- মেসার্স পল্লী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী গোলাম সরোয়ার বাদল। এ ঘটনায় প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দীন বাদী হয়ে গোলাম সরোয়ার বাদলকে প্রধান আসামি করে রবিবার রাতে দুমকি থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মারধরের শিকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সালাম বলেন, ‘২০১৬ সালে গোলাম সরোয়ার বাদল দুমকী উপজেলার পাঙ্গাশিয়ায় ব্রিজ নির্মাণ করেন। কাজ শেষ হলেও নির্মাণাধীন ব্রিজে নানা ত্রুটি থাকায় কাজের অনুকূলে অর্থ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। কিন্তু ঠিকাদার বাদল রবিবার আমার কাছে এসে শতভাগ বিল দাবি করে। তার দাবির বিপরীতে আমি আপত্তি জানি বলি, উল্লিখিত প্রকল্পে যৌথ মেজারমেন্ট করে বাকি বিল পরিশোধ করা হবে। আপনি চাইলেই আমি বিল দিতে পারি না। এতে ঠিকাদার বাদল রাগান্বিত হয়ে আমাকে চড়থাপ্পড় দিতে শুরু করেন। পরে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর কক্ষে গিয়েও একই কাণ্ড ঘটান।’
আরেক ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ গোলাম সরোয়ার বাদল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রথমে আমার কার্যালয়ের সালামের সঙ্গে পুরোনো একটি বিল নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও মারধর করে। এরপর আমার কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি বিল নিয়ে কথা বলতে চাইলে পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করার পরামর্শ দেই। এ সময় কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি চেয়ার ছেড়ে আমার বাম গালে চড়থাপ্পড় মারেন। এ সময় তিনি কোমরে থাকা পিস্তল খুঁজতে খুঁজতে ভয়ভীতি দেখান। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি।’
অভিযুক্ত গোলাম সরোয়ার বাদল দাবি করেন, ‘পুরোনো একটি বিল নিয়ে এলজিইডি টালবাহানা শুরু করে। বিল সংক্রান্ত বিষয়ে দুমকী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ মধ্যস্থতা করেন। বিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সালাম ১০ লাখ টাকা দাবি করলে আমি ধারদেনা করে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা সালামকে দেই। কিন্তু সালাম ওই টাকা হাতে নিয়ে বাকি টাকা দাবি করে বিল দিতে বেকে বসে। তখন আমি তার গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হই।’
দুমকী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি অফিসে ছিলাম। মারধরের ঘটনার পর এলজিইডির লোকজন আমাকে এসে বিষয়টি জানালে আমি গিয়ে ঠিকাদারকে বাদলকে পাইনি। কিন্তু ঘটনাটি উপজেলা পরিষদের নয়, এটা জেলা অফিসের। তবুও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই।’
দুমকী থানার ওসি মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এদিকে, এ ঘটনার বিচারের দাবিতে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে অধিদফতরের দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন করেছেন।









