পটুয়াখালীতে মুগডাল তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রাসেল মোল্লা (২৬) নামের এক যুবক খুন হয়েছেন। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় আরও ৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের বাহেরমৌজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ( পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জড়িতদের আটকের নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই গ্রামের মো. আবুল বাশার বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে জয়নাল শরীফ (৬৫), রুবেল শরীফ (২২), হাবিব শরীফ (৪০), কামাল শরীফ (৪৫), হানিফ শরীফ (২৪) ও হাসান শরীফসহ ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধীদের জমিতে মুগডাল তুলতে শুরু করেন। প্রতিপক্ষকে ডাল তুলতে দেখে সরোয়ার মোল্লা, রাসেল মোল্লাসহ অনেকেই বাঁধা দিতে যান। এ সময় ঝামেলা এড়াতে স্থানীয়রা তাদের থামিয়ে দিলে ভিকটিম পক্ষ বাড়ি চলে যায়।
এদিকে ডাল তোলা শেষ হলে শরীফগোষ্ঠী অস্ত্র হাতে রাসেল মোল্লার বাড়ীর সামনে দিয়ে তাদের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শরীফগোষ্ঠীর সঙ্গে থাকা অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি প্রতিপক্ষের ওপর হামলা শুরু করে। ওই হামলায় সরোয়ার মোল্লা (৪০), তার ভাই রাসেল মোল্লা (৩০), আলমগীর মোল্লা (৩৬), লিটন মোল্লা (২৬)ও তাদের ভাতিজা ফিরোজ মোল্লা (১৯) আহত হন।
হামলাকালে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাসেল মোল্লার পিঠে ও পেটের নিচাংশ কেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শুক্রবার শেষ সন্ধ্যায় রাসেল মোল্লাসহ ৫ আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। কিন্তু রাসেল আগেই মোল্লা মারা যান। বাকি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেন, ঘটনা শোনার পর তাৎক্ষণিক আমি ও অ্যাডিশনাল এসপিসহ একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছাই। নিহতের পরিবারকে শান্তনা দেই। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।








