X
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

এক কক্ষেই কেটে গেলো এক যুগ

বরিশাল প্রতিনিধি
২৫ আগস্ট ২০২২, ২২:২৯আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ২২:২৯

১২ বছর আগে আকস্মিকভাবে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন সেই সময়ে আলিমে অধ্যয়নরত আল আমিন। এরপর দীর্ঘদিন পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বাড়িতে ফিরলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার একই হয়ে যান। পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে যাকে কাছে পেতেন তাকেই মারধর করতেন। এরপর তাকে আটক রাখা হয় একটি কক্ষে। সেই কক্ষেই বন্দি অবস্থায় কাটিয়ে দিলেন এক যুগ।

আল আমিন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পাঁচআনি গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে। জম্বিলা খাতুন মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে একই ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। আলিমে পড়া অবস্থায় মাদ্রাসায় অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন।

চার ভাইবোনের মধ্যে আল আমিন ছাড়া বাকিরা ঢাকায় থাকেন। বড় ও মেজো ভাই একটি গার্মেন্টের পণ্যবাহী ট্রাক চালান। বাবা ঢাকায় একটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু চার বছর আগে মা মারা যাওয়ায় বাবাও আল আমিনের জন্য বাড়িতে অবস্থান করছেন।

বাবা আবুল কালাম জানান, মাদ্রাসায় লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁক ছিল তার। নিয়মিত পড়াশোনা করে ভালো একটা অবস্থান তৈরি করেছিল। ওই সময় ঢাকায় ব্যবসা করতেন। ছেলের মাদ্রাসায় ভালো ফলাফলে তিনিও খুশি ছিলেন। আলিমের শেষ বছরে পড়াকালে মাদ্রাসা থেকে অভিযোগ আসে সে তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। এমনকি বিভিন্ন সময় তাদের ওপর হামলাও চালায়। তার আচরণ অস্বাভাবিক বলে সেখান থেকে জানানো হয়। এরপর তাকে বাড়িতে এনে রাখা হলে তার অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়টি ধরা পড়ে। হঠাৎ রেগে যাকে পায় তাকে মারধর শুরু করে। ওই সময় হাতের কাছে যা পাবে তা দিয়ে মারতে যায়। এরপর বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসরা খবর দেন আল আমিন ভালো হয়েছে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যখন আনা হয় তখন তাকে স্বাভাবিক মনে হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে আসার পর আবারও সেই একই অবস্থা দেখা দেয়। পাবনা মানসিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয় এর চেয়ে আর ভালো হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আবুল কালাম বলেন, ‘তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আল আমিনকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ তার রেগে ওঠা এবং মানুষের ওপর হামলা চালানোর কারণে তাকে একটি ঘরে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। সময়মতো তাকে খাবার ও ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ছেলেদের আয় তেমন না থাকায় তাদের টাকা পাঠানো একরকম বন্ধ। এ কারণে তিনবেলা খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারপরও আমি না খেয়ে আল আমিনকে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, আমার ছেলেকে দেখভালের জন্য। এখন যতদিন বাঁচবো তার সেবা করেই যেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাকে বের করলে যে কারও ওপর হামলা চালাতে পারে এই কারণে সাহস পাই না। ঘরের মধ্যে বন্দি থাকলে ওর জন্য তেমন চিন্তা লাগে না। আল আমিনের সঙ্গে কথা বললে মনে হবে না সে অস্বাভাবিক। লোহার গেটের ফাঁক দিয়ে কথা বলার সময় বারবার বলছিল আমাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যান। এরপর আবোলতাবোল কিছু বলে। যাকে দেখে তার কাছে খাবার চায়। বেশিরভাগ সময় ওই কক্ষের গেটের কাছে বসে থাকে। নিজে নিজে কথা বলতে থাকে।’

স্থানীয় চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, ‘আল আমিনের অস্বাভাবিক আচরণের একটা প্রবণতা আছে। আর এ কারণে তার পরিবার থেকেই একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। তবে তাকে মুক্ত করতে হলে চিকিৎসা দিতে হবে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখি, তার জন্য কোনও ব্যবস্থা করা যায় কি-না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতেমা বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি এই উপজেলায় যোগ দিয়েছি। এই কারণে বিষয়টি আমার নজরে নেই।’ তবে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

/এফআর/
প্রতিটির হিসাব নিচ্ছি, সাজানো মামলা দেবেন না: মির্জা ফখরুল
নয়া পল্টনেই অনুমতি দিতে হবেপ্রতিটির হিসাব নিচ্ছি, সাজানো মামলা দেবেন না: মির্জা ফখরুল
ছেলে-পুত্রবধূ-নাতির বিরুদ্ধে শয্যাশায়ী বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছেলে-পুত্রবধূ-নাতির বিরুদ্ধে শয্যাশায়ী বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
নালিয়ার দোলায় হচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
নালিয়ার দোলায় হচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে গ্রেফতার যুবক 
স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে গ্রেফতার যুবক 
সর্বাধিক পঠিত
লুট হওয়া ১১ অস্ত্র মিয়ানমার থেকে ফেরত পাওয়ার আশা বিজিবির
লুট হওয়া ১১ অস্ত্র মিয়ানমার থেকে ফেরত পাওয়ার আশা বিজিবির
ফিফার মান বাঁচালেন ‘বিটিএস’ জাংকুক!
ফিফার মান বাঁচালেন ‘বিটিএস’ জাংকুক!
রিট করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট
ইসলামী ব্যাংকের ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণরিট করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট
৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ
৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ
তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতা
তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতা