ঝালকাঠি ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) হাবিবকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দিলে শুক্রবার ঝালকাঠি ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে নেয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ। জেলা পুলিশের ডি-স্টেরের দায়িত্ব দিয়ে পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ আছে, জেলার পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম ছিল টিআই হাবিব। পুলিশের এই কর্মকর্তার বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হুমকি-ধমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল পরিবহন ও মোটরসাইকেল চালকরা।
জেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল সন্ধ্যা নানা অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন গাড়ি আটক করতে টিআই হাবিব নিজেই। মোটরযান অপরাধ আইন অনুযায়ী যানবাহনে ত্রুটি বা চালকের অপরাধ হলে পজ মেশিন দিয়ে ঘটনাস্থলেই মামলা দেওয়ার বিধান ধাকলেও হাবিবের বিধান ছিল ভিন্ন। তিনি ধরন বুঝে মোটরসাইকেল ধরে ঘটনাস্থলে ব্যবস্থা না নিয়ে তার কার্যালয় সদর পুলিশ ফাঁড়ির অভ্যন্তরে রাখতেন। সুযোগ বুঝে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিতেন। বেশ কিছুদিন অনুসন্ধান করে গণমাধ্যমকর্মী এসব নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদনও করেন।
সম্প্রতি ঝালকাঠি পুলিশ সুপার বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাবিব সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে থাকেন। বিষয়টি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাও বুঝতে পারেন।
মোটরসাইকেল আটক বাণিজ্য ছাড়াও কুরিয়ার সার্ভিস, পার্সেল পরিবহন, কাভার্ডভ্যান, টমটম, অটোরিকশা ইজিবাইক এবং ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাস থেকেও নিতেন মাসোয়ারা। এই ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বদলিতে পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যানবাহন চালক ও সংস্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর হাবিব বলেন, পুলিশ সুপার বেশ কিছুদিন ধরে আমার ওপর অসন্তুষ্ট, তার কাছে কেউ হয়তো বলেছে আমি অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করি। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে টিআই থেকে ডি-স্টোরে বদলিটা আমার জন্য ভালো হয়েছে।
পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, তার (টিআই) বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হচ্ছে, তাকে বদলি করা হয়েছে।









