আচরণবিধি লঙ্ঘন: শোকজের জবাব দিলেন শম্ভুসহ ৯ আ.লীগ নেতা

বরগুনা প্রতিনিধি
১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:২৯আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:২৯

বরগুনার তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় ‘নির্বাচনি প্রচারণামূলক বক্তব্য’ দিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে  বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুসহ আওয়ামী লীগের ৯ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের আলোকে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এম মজিবুল হক কিসলু সবার পক্ষে নোটিশের জবাব দিয়েছেন।  

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা যুগ্ম জজ আহমদ সাঈদের কাছে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট এম মজিবুল হক কিসলু। এসময় অভিযোগের দায় থেকে সবার অব্যাহতি প্রার্থনা করা হয়।

নোটিশের জবাবে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৯ ডিসেম্বর তারিখে সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে কোনও নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়নি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। দলীয় প্রোগ্রাম করতে কোনও বাধা নেই। নোটিশের ১ নম্বর জবাবদাতা ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণবিধি মেনে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করার মতো কোনও বক্তব্য দেননি। অন্যান্য দুই থেকে ৯ নম্বর জবাবদাতা উল্লেখিত নেতারা তাদের কর্মীদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ১৮ ডিসেম্বর থেকে কাজ করতে বলেছেন। একজন নেতা তাদের কর্মীদের উপর এমন নির্দেশনা আচরণবিধির মধ্যে পড়ে না।

এতে নির্বাচনের কোন আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে, নোটিশে তার উল্লেখ নেই জানিয়ে জবাবে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৪ এর প্রচারাভিযান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। প্রচার শুরু হলে ২৪ ঘণ্টা আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হবে। 

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সভামঞ্চে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কোনও প্রচার বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়নি দাবি করে অভিযুক্তদের পক্ষে বলা হয়, বর্ধিতসভায় শুধু ঘরোয়া পরিবেশে সীমিত জায়গায় দলীয় নেতকর্মী ছাড়া অন্য কেউ থাকেন না। দলীয় বিশেষ বর্ধিত সভার আগে বা পরে কোনও প্রচারণা বা মিছিলও করা হয়নি। ওই সভায় কোনও মাইক ব্যবহার করা হয়নি। এটি একটি দলীয় শৃঙ্খলার সভা। এই সময়ে কোনও ভোট চাওয়া হয়নি। এটি একটি দলীয় সভা ছিল। এবিষয়ে বরগুনার সম্মানিত রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসককে ওভার মোবাইল ফোনে আলোচনা করে জানানো হয়। প্রার্থী নিজেই কথা বলেছেন।

সভায় দলীয় আলোচনা হয় উল্লেখ করে লিখিত জবাবে বলা হয়, হয়তো দলের বাইরের কেউ কিছু কথাবার্তা বলে থাকতে পারেন। সেই দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগ নিতে পারে না। ১ নম্বর জবাবদাতা ৫ বারের জাতীয় সংসদ সদস্য। মহান জাতীয় সংসদের একজন আইন প্রণেতা। তিনি তার পদমর্যাদা সম্বন্ধে অত্যন্ত সচেতন। তিনি সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার কথা বলেন। তারপরও অভিযুক্তরা যদি কোনোক্রমে তাদের পাশে থাকা অন্য কোনও ব্যক্তি কিছু বলে থাকলে প্রাথমিকভাবে মার্জনার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ থাকলো। আচরণবিধি সম্বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিল গণসচেতনতা করা। চরণবিধিতে কী কী আছে, তা সাধারণ জনগণ আদৌ জানেন না।

সবশেষ এক থেকে ৯ নম্বর জবাবদাতাকে কারণ দর্শানোর অভিযোগ দায় হতে অব্যহতির আবেদন জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, বরগুনা-১ (সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুসহ ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার নামে নির্বাচনী প্রচারণামূলক জনসভা করার অভিযোগে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমতলী পৌরসভার মেয়র মো. মতিয়ার রহমান, তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল বারেক মাঝি, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি-উল-কবির জমাদ্দার, আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ কাদের, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম হাসান, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও তালতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু, সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আজিজুল হক স্বপন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট এম মজিবুল হক কিসলু বলেন, প্রার্থীসহ যে ৯ নেতাকর্মীকে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান শোকজ করেছিলেন, আমি তাদের পক্ষে বুধবার বিকালে শোকজের জবাব দিয়েছি।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
মুক্তি পেলেন সাবেক মেয়র আইভী
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান