শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি ছুটিকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেকটাই শূন্য হয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকও কিছুটা বাড়তে থাকে। হিন্দু ধর্মের এই বড় উৎসবকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেলে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলো ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাখিমারা থেকে আলীপুর থ্রি পয়েন্ট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রাস্তা খুবই খারাপ। রাস্তাটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হলেও মাত্র এক কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ অসমাপ্ত থাকায় আশানুরূপ পর্যটক না হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, চলতি বছরের মে মাস থেকে হোটেল সেক্টরে লোকসান। তবে এই পূজা উপলক্ষে শুক্রবার-শনিবার ৫০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে।
শিকদার রিসোর্টের জিএম আনোয়ারুল আজিম বলেন, আগামী চার দিনের ছুটিকে সামনে রেখে দুই দিনের জন্য আমাদের হোটেলের রুমগুলো ৬০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। বাকি দিনগুলো আশানুরূপ বুকিং হয়নি।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, কুয়াকাটায় সর্বমোট ২০০টি আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১০-১৩ তারিখের পর্যটকদের বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আগত পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, পূজা উপলক্ষে সাড়া বেশ ভালোই আছে। তবে বরাবরের ন্যায় আমরা ৪০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দিয়েছি। সমুদ্র সৈকত উপভোগে আসা বিশ-ত্রিশ হাজার পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে বর্তমানে। তবে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরও প্রতিনিয়ত আসতে শুরু করেছেন কুয়াকাটায়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে। যে কারণে বরিশাল থেকে আসা অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ট্যুরিস্ট পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারি ও মাইকিংসহ পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।









