ভোলায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভোলার সচেতন সমাজ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি শেষে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোলা প্রেসক্লাবে ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম নাহিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও এনটিভির ভোলা জেলা প্রতিনিধি আফজাল হোসেন স্থানীয় একদল লোক নিয়ে তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় আহত নাহিদ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় আফজাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।
স্মারকলিপি ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভোলার বিভিন্ন সাংবাদিক ও অতিথিরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জড়ো হন। অনুষ্ঠান শেষে আফজাল হোসেন স্থানীয় একদল লোক নিয়ে নাহিদের ওপর হামলা করেন। ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে তিনি চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে নাহিদের মাথা ফাটিয়ে দেন। এতে তার চার-পাঁচটি সেলাই লেগেছে। এ সময় নাহিদের ক্যামেরাপারসন মো. জাফরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা থেকে বরিশাল পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হলে আফজাল আত্মগোপনে চলে যান।
প্রতিবাদে রবিবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেন নাহিদের এলাকার লোকজন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আফজাল হোসেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাহিদের ওপর হামলা করেন। তাকে ও প্রেসক্লাবে উপস্থিত সদস্যদের আফজালের লোকজন কিল-ঘুষি ও লাথি মেরেছেন। এ ঘটনায় নাহিদ থানায় মামলা করলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। এরপর মানববন্ধনকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।
ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এইচ এম নাহিদ বলেন, ‘৫ জুলাইয়ের আগে ভোলা প্রেসক্লাবে দুটি কমিটি ছিল। পরে তিনটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়েছে। বিএনপি-সমর্থিত এক পক্ষ চাচ্ছে, বিনা ভোটে প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করা হোক। তারা চাচ্ছেন, সাধারণ ভোটারের ভোটে কমিটি গঠিত হোক। আফজাল দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে সাধারণ সম্পাদক হতে চান। আমি প্রতিবাদ করায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের নিয়ে আফজাল আমার ওপর হামলা করেন। এতে আমি আহত হই।’
তবে আফজাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘৫ জুলাইয়ের আগে প্রেসক্লাব থেকে যাদের বহিষ্কার করা হয়, তারা আরেকটি কমিটি গঠন করেছিলেন। তাদের অনেকে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পাননি। এখন নতুন করে কমিটি গঠন করতে চাইলে বিদ্রোহী কমিটির সদস্যরা শর্ত দেন, বহিষ্কৃত সাংবাদিক ও নতুন সদস্য বানিয়ে নির্বাচন করতে হবে এবং নাহিদসহ তিন জনকে বাধ্যতামূলক নির্বাহী কমিটিতে আনতে হবে, যা গঠনতন্ত্রবিরোধী। এ নিয়ে নাহিদসহ ওই পক্ষের সঙ্গে আমার বিরোধ। ওই বিরোধের জেরে নাহিদ আমাকে নিয়ে ফেসবুকে আজেবাজে পোস্ট করে আসছেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন নাহিদ গালাগাল করলে এবং গায়ে হাত তুললে হামলার ঘটনা ঘটে।’









