বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামের একটি টিনশেড বাসায় মাদকের আসরে অভিযান চালিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে এ অভিযান চালানো হয়। বিকালে মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়া বাকি তিন জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন, নগরের পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলাম, নাহিদ হাসান ও ফাতেমা আক্তার নুরতাজ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলামের টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলা হয়। এ সময় বাসায় থাকা ব্যক্তিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। তবে তারা সাড়া না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
তিনি জানিয়েছেন, একপর্যায়ে এএসআই দেলোয়ার হোসেন বাসার টিনের বেড়া ভেঙে বাইরে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন নিচে থাকা কাদামাটিতে পড়ে গেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা তাকে আটক করতে গেলে ধস্তাধস্তি হয়। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার জনকে আটক করা হয়। তবে অভিযানে মাদকের বড় কোনও চালান পাওয়া যায়নি। শুধু ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিদর্শক জাহিদুল বলেন, ‘আটক এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক নিজে আমাদের এখানে এসেছিলেন। তিনি আটক এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে তার জিম্মায় নিয়ে গেছেন।’
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, মিরাজুল ইসলামের দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সরবরাহেরও অভিযোগ আছে। এ ছাড়া এএসআই দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।