লক্ষ্মীপুরে বেকারি কারখানার শ্রমিক এক শিশুকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার গভীর রাতে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বিসমিল্লা রোড এলাকার বেকারি কারখানা আনন্দ পেস্ট্রি শপের ভবনের দোতলা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
নিহত শিশুর নাম আলাউদ্দিন (১২)। তার বাড়ি দত্তপাড়া ইউনিয়নের উত্তর মাগুরী গ্রামে, বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ। আনন্দ পেস্ট্রি শপে সে গত ছয় মাস ধরে কাজ করে আসছে বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানায় পুলিশ। এই মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকৃতরা হলেন, বেকারি মালিক নাছির উদ্দিন রনি ও আল আমিন।
পুলিশ সুপার ধারণা করছেন, শিশু আলাউদ্দিনকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেনও এমনটাই ইঙ্গিত করেছেন। আবাসিক এই চিকিৎসক জানান, নিহত শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে বেকারির শ্রমিক সর্দার ইব্রাহীম প্রকাশ শাহজাহান মোবাইল ফোনে বেকারির মালিক নাসির উদ্দিন রনিকে জানান, আলাউদ্দিন গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ কথার বলার পরই মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন ইব্রাহীম প্রকাশ।
আলাউদ্দিনের বাবা আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কারখানার মালিকসহ অন্য শ্রমিকরা তার সন্তানকে প্রায়ই মারধর করতো। নির্যাতন করেই আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
পুলিশের ধারণা, নির্যাতনে আলাউদ্দিনের মৃত্যু হলে ইব্রাহীম প্রকাশ শাহজাহানসহ শামীম ও মিজান নামে তিন শ্রমিক শিশু আলাউদ্দিনের লাশ ভবনের দোতলায় একটি রডের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে বাইরের ফটকে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। এই তিনজনের বাড়ি ভোলা জেরার চর ফ্যাশনে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
/এইচকে/








