বান্দরবান জেলার চরম খাদ্যসংকট কবলিত উপজেলা থানচিতে ৪৬ মেট্রিক টন চাল পাঠাচ্ছে জেলা প্রশাসন। এর আগে ১৬ মেট্রিক টন চাল পাঠানোর কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার আরও ৩০ মেট্রিক টন চাল পাঠানোর কথা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক।
২০১৫ সালে খারাপ আবহাওয়ায় জুম-ফসলের ফলন ভালো না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে খাদ্য সংকটে পড়েন দুর্গম এই এলাকার অধিবাসীরা। জানা যায়, থানচির দুর্গম রেমাক্রি, তিন্দু, ছোট মোদক, বড় মোদক ও সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল; মূলত এসব এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় ত্রিপুরা, ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের বাস। পাহাড়ে জুম চাষের মাধ্যমে তারা সারা বছরের ধান সংগ্রহ করে রাখেন। ভালো ফলন না হলে, ইঁদুরের আক্রমণ ঘটলে বা বন্যা দেখা দিলে বছরের খাদ্য মজুদ করা সম্ভব হয়না।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য শস্য আছে। তাই দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সেনা সূত্র মারফত জানা যায়, ত্রাণ তৎপরতায় গতি আনতে পীড়িত এলাকাগুলোয় হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেনাবাহিনী।
ইতোপূর্বে ২০১২ সালে বান্দরবানের থানচি, রুমা, রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলায় খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এসময় মে থেকে অক্টোবর এই ছয় মাসের জন্য সাড়ে ছয় হাজার পরিবারকে একটি প্যাকেজের আওতায় খাদ্য সাহায্য দেয়া হয়। প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৫০ কেজি চাল, নগদ ১২শ’ টাকা, ৩ লিটার ভোজ্য তেল, গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৬ কেজি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য, জুমের বীজ কেনার জন্য এককালীন পরিবারপ্রতি দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ড: উন্নত প্রযুক্তিতে যোগাযোগ রাখতো খুনিরা
/এইচকে/আপ-এআর/








