পুলিশের এক এসআই মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার অপরাধে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বান্দরবানের লামা পৌর এলাকার কর আদায়কারী মো. রিদুয়ান। অভিযুক্ত ওই এসআই এর নাম আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর। তিনি লামা থানায় বর্তমানে কর্তব্যরত আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকালে লামার লাইন ঝিরি পৌর টোল পয়েন্টে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন লামা থানার এসআই আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর। এ সময় ওই টোল পয়েন্টে এসে কর আদায়কারী রিদুয়ান তার সহকর্মী আলীকে একটু জোরেই জিজ্ঞেস করেন, ‘নতুন টোল পয়েন্ট নির্মাণ করার পরও বৃষ্টির পানি পড়ে কেন?’ একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে এসআই জায়েদ নূর তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তার মোবাইল ফোনে কথা বলায় বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ তুলে তিনি রিদুয়ানকে বলেন, “তুই জোরে কথা বললি কেন? আমাকে চিনিস? আমি লামা থানার এস. আই”। এ কথা বলে রিদুয়ানকে এলোপাতাড়ি লাথি কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে মাটিতে ফেলে চলে যান তিনি।
পরে তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এসআই নূরের মারধরে তার ঠোঁট ফেটে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালসিটে দাগ পড়ে গেছে। বর্তমানে লামা হাসপাতালের ৯ নম্বর সিটে চিকিৎসাধীন রিদুয়ান ব্যথায় শরীর নাড়াতে পারছেন না এবং ঘুমের মধ্যে ভয়ে আঁতকে উঠছেন।
নির্যাতনের শিকার রিদুয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি (এসআই) সিভিল পোশাকে থাকায় আমি চিনতে পারিনি। তিনি মোবাইলে কথা বলার সময় কথা বলেছি বলে এভাবে মারবে আমাকে?
রিদুয়ান লামা পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের বারবাড়ীর হাবিবুর রহমানের ছেলে।
লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ কায়সার বলেন, তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তবে ঠোঁটে আঘাত পাওয়ার কারণে ঠোঁটে ফেটে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, লামা থানায় যোগ দেওয়ার পর এসআই আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন। লামার পৌর এলাকার বিভিন্ন যানবাহন থেকে তিনি মাসোহারা আদায় করেন এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে লামা থানার এসআই আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ঘটনাটি জানেন না বলে দাবি করেন। পরে একপর্যায়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তার সঙ্গে আমার কিছুই হয়নি, সে (রিদুয়ান) ভয়ে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছে।
/বিটি/টিএন/
আরও পড়তে পারেন: মহিবুরের ফাঁসি, মজিবুর ও রাজ্জাকের আমৃত্যু কারাদণ্ড







