
প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের পদচারণায় মুখরহয়ে ওঠেছে খাগড়াছড়ির সব বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটগুলো। টানা ছুটিতে পাহাড়, নদী, ঝর্ণা ও বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি উপভোগ করতে হাজার হাজার পর্যটক এখন খাগড়াছড়িতে। জেলা, উপজেলা কোনও হোটেল-মোটেল খালি নেই। প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক পেয়ে খুশি হোটেল ব্যাবসায়ীরা। আকর্ষণীয় স্থানগুলোয় যোগাযোগের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যাবস্থার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
খাগড়াছড়ির যেদিকেই তাকাবেন সেদিকেই পাহাড়, গাছপালা, নদী, ঝর্ণা আর নীল আকাশ। প্রকৃতির সঙ্গে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক বিভিন্ন গোষ্টীর বৈচিত্র্যময় জীবন ও সংস্কৃতি। এসব কারণেই পর্যটকদের কাছে এখন আকর্ষণীয় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
ঈদের ছুটিতে পর্যটকেরা ভিড় জমিয়েছেন জেলার হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহা, রিছাং ঝর্না, মাটিরাংগার শতবর্ষী বটগাছ, মানিকছড়ির বনলতা অ্যাগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড, মহালছড়ির দেবতা পুকুর, দিঘীনালার হাজাছড়া-তৈদুছড়া ঝর্নাসহ পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সাজেকে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় এবং পার্শ্ববর্তী রাঙামাটি জেলার সাজেক থানায় সব মিলিয়ে শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এসব জায়গায় সব মিলিয়ে গড়ে ১০ হাজার পর্যটক থাকতে পারেন।
কুমিল্লার লাকসাম থেকে বেড়াতে আবদুল্লাহ আল-রাকিব বলেন, তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে না গিয়ে খাগড়াছড়ি বেড়াতে এসেছেন। সবুজ পাহাড়-সর্পিল নদী-চপলা ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তিনি মুগ্ধ। আগামীকাল সাজেক যাবেন। তবে গাড়ি ভাড়া খুব বেশি চাচ্ছে। এ রুটে কোনও পাবলিক পরিবহন না চলায় সেরকারি গাড়ির মালিক- চালকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া হাকাচ্ছেন। তিনি খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পাবলিক বাস চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
চট্রগ্রামের থেকে আসা রহমান ফায়সাল ও তার স্ত্রী লাভলী রহমানও খাগড়াছড়ি বেড়াতে এসেছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করে দ্বিতীয় দিন তারা খাগড়াছড়ির আলুটিলা ও রিছাং ঝর্ণা দেখতে এসেছেন। সাজেবও যাবেন তারা। কয়েকটা দিন শহুরে কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির মাঝেই কাটাবেন।

ঢাকা থেকে সপরিবারে এসেছেন সরকারি চাকুরে আতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘তিনদিনস্ত্রী-ছেলে-মেয়েকে নিয়ে প্রকৃতির মাঝে থাকবো। কোলাহলের শহর ছেড়ে কয়েকটা দিন নির্মল প্রকৃতির মধ্যে কাটাবো।’
খাগড়াছড়ির বেসরকারি হোটেল অরণ্য বিলাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঈদ উপলক্ষে অনেক পর্যটক খাগড়াছড়িতে এসেছেন। পুরো সপ্তাহের জন্য বুকিং রয়েছে তার মোটেল। তিনি খুব খুশি।
খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পরিবহনে ভাড়া বেশির বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, এমন চলতে থাকলে এই এলাকায় পর্যটকরা আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। তিনিও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পাবলিক বাস সার্ভিস চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মজিদ আলী বলেন, ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়িতে আসা পর্যটকদের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, খাগড়াছড়ি পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। কেউ কোনও বিষয়ে অরাজকতা যেন করতে না পারেসেই বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং পাবলিক বাস চালুর বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
/এসটি/








