খাগড়াছড়ি জেলার আলুটিলায় আরও ৭০০ একর জমিতে পর্যটন কেন্দ্র সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এতে উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন শতাধিক পাহাড়ি পরিবার। তাদের আশঙ্কা, সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তারা ঘর-বাড়ি ও ভূমি হারাবেন।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে রিছাং ঝর্ণা এলাকা পর্যন্ত আরও ৭০০ একর জায়গায় পর্যটন কেন্দ্র সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গোলাবাড়ি মৌজায় প্রায় ৪০ একর, আলুটিলা মৌজায় প্রায় ৬০ একর ও তৈকাতং মৌজায় ৬০০ একর জায়গা রয়েছে। এই তিন মৌজায় প্রায় ১০০ পরিবারের বসবাস করছে। ইতিমধ্যে আলুটিলার আশে-পাশের ৭০০ একর এলাকাকে অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার পাশাপাশি প্রকল্পটি একনেকেও পাশ হয়েছে। প্রস্তাবটি পাশের কথা শুনে আন্দোলন শুরু করেছে স্থানীয় পাহাড়িরা।
খাগড়াছড়ি সদরের আলুটিলা এলাকার বাসিন্দা প্রতিভা ত্রিপুরা বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। সরকার এসব জায়গা পর্যটনের জন্য নিয়ে গেলে কোথায় যাবো? শতাধিক পরিবারের কী হবে? তাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতই বা কী?’
খাগড়াছড়ি সদরের রিদয় মেম্বারপাড়া এলাকার সুমন ত্রিপুরা বলেন, ‘পর্যটনের জন্য জায়গা ছেড়ে আমরা উচ্ছেদ হবো, ভুমি হারাবো, ঘরবাড়ি হারাবো, উদ্বাস্তু হবো। আর লোকজন এখানে এসে আনন্দ করবে। অনেকটা আমাদের মরা লাশের উপর আনন্দ করার সমান। আমরা উচ্ছেদ আতঙ্কে আছি। জান গেলেও ভূমি ছাড়বো না।’
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, ‘আলুটিলায় পর্যটন সম্প্রসারণ হলে একটি পরিবারও উচ্ছেদ হবে না। কাউকে জায়গা ছাড়তে হবে না। বরং আজকে যারা ছনের ঘরে আছে, তারা দালান ঘরে থাকবে। পর্যটন সম্প্রসারণ এলাকায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থানীয় পাহাড়িরাই চাকরি পাবে। পর্যটন সম্প্রসারণ পাহাড়িদের জন্যই কল্যাণময় হবে।’
খাগড়াছড়ি জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম কাউছার হোসেন বলেন,‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখনও পর্যটন সম্প্রসারণের বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এরপরেও স্থানীয় জনগণ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। আমরা স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো।’
আরও পড়ুন সিরাজগঞ্জে জেএমবির ৩ সদস্যের রিমান্ড মঞ্জুর
/এমডিপি/এফএস/








