উচ্ছেদ আতঙ্কে শতাধিক পাহাড়ি পরিবার

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:৪৭আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:৪৭

উচ্ছেদ আতঙ্কে শতাধিক পাহাড়ি পরিবার খাগড়াছড়ি জেলার আলুটিলায় আরও ৭০০ একর জমিতে পর্যটন কেন্দ্র সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এতে উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন শতাধিক পাহাড়ি পরিবার। তাদের আশঙ্কা, সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তারা ঘর-বাড়ি ও ভূমি হারাবেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে রিছাং ঝর্ণা এলাকা পর্যন্ত আরও ৭০০ একর জায়গায় পর্যটন কেন্দ্র সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গোলাবাড়ি মৌজায় প্রায় ৪০ একর, আলুটিলা মৌজায় প্রায় ৬০ একর ও তৈকাতং মৌজায় ৬০০ একর জায়গা রয়েছে। এই তিন মৌজায় প্রায় ১০০ পরিবারের বসবাস করছে। ইতিমধ্যে আলুটিলার আশে-পাশের ৭০০ একর এলাকাকে অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার পাশাপাশি প্রকল্পটি একনেকেও পাশ হয়েছে। প্রস্তাবটি পাশের কথা শুনে আন্দোলন শুরু করেছে স্থানীয় পাহাড়িরা।

খাগড়াছড়ি সদরের আলুটিলা এলাকার বাসিন্দা প্রতিভা ত্রিপুরা বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। সরকার এসব জায়গা পর্যটনের জন্য নিয়ে গেলে কোথায় যাবো? শতাধিক পরিবারের কী হবে? তাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতই বা কী?’

উচ্ছেদ আতঙ্কে শতাধিক পাহাড়ি পরিবার খাগড়াছড়ি সদরের রিদয় মেম্বারপাড়া এলাকার সুমন ত্রিপুরা বলেন, ‘পর্যটনের জন্য জায়গা ছেড়ে আমরা উচ্ছেদ হবো, ভুমি হারাবো, ঘরবাড়ি হারাবো, উদ্বাস্তু হবো। আর লোকজন এখানে এসে আনন্দ করবে। অনেকটা আমাদের মরা লাশের উপর আনন্দ করার সমান। আমরা উচ্ছেদ আতঙ্কে আছি। জান গেলেও ভূমি ছাড়বো না।’

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, ‘আলুটিলায় পর্যটন সম্প্রসারণ হলে একটি পরিবারও উচ্ছেদ হবে না। কাউকে জায়গা ছাড়তে হবে না। বরং আজকে যারা ছনের ঘরে আছে, তারা দালান ঘরে থাকবে। পর্যটন সম্প্রসারণ এলাকায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থানীয় পাহাড়িরাই চাকরি পাবে। পর্যটন সম্প্রসারণ পাহাড়িদের জন্যই কল্যাণময় হবে।’

খাগড়াছড়ি জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম কাউছার হোসেন বলেন,‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখনও পর্যটন সম্প্রসারণের বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এরপরেও স্থানীয় জনগণ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। আমরা স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো।’

আরও পড়ুন সিরাজগঞ্জে জেএমবির ৩ সদস্যের রিমান্ড মঞ্জুর

/এমডিপি/এফএস/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম