কুমিল্লা শহরের অনেক বাসা-বাড়ির ছাদই এখন ফুল, ফল আর সবজিতে ভরা। সেখানে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ছাদ-বাগান’। আর এই বাগান করার জন্য ভবন-মালিকদের নিয়মিতভাবে উৎসাহ আর পরামর্শ দিয়ে আসছে ‘আধুনিক কৃষিমনা’ নামের একটি সংগঠন। বর্তমানে দেশের ৩৮টি জেলায় ‘ছাদ-বাগান’ নিয়ে কাজ করছে তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা শহরে বর্তমানে ৩৭টি ভবনের ছাদে বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। ‘আধুনিক কৃষিমনা’র লক্ষ্য, ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা ২০০-তে নিয়ে যাওয়া। আর ২০১৭ সালের মধ্যে নগরীর ৭০ ভাগ ছাদ বাগানে পরিণত করতে চায় তারা।
শহরের চর্থা এলাকার ছাদ-বাগানের মালিক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জায়গা না থাকায় ছাদে বাগান করেছি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের পুষ্টির চাহিদাও মিটছে। কৃষিমনার পরামর্শে আমরা একটি পরিপূর্ণ বাগান গড়ে তুলতে পেরেছি। এখানে বিষমুক্ত ফলের পাশাপশি সবজিও পাওয়া যাচ্ছে। ছাদের বাগানে অবসর সময় কাটানো যায়। শিশুরাও খেলাধুলা করতে পারে।’
‘আধুনিক কৃষিমনা’র প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমি পেশায় কৃষি কর্মকর্তা। নগর-জীবনের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ছাদে বাগান করার বিষয়ে কাজ শুরু করি। প্রথমে মানুষ সাড়া দেয়নি। বলতো, এতে আপনাদের কী লাভ? এখন মানুষ সচেতন হচ্ছে, ছাদে বাগান করায় আগ্রহী হচ্ছে।’
মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘নিয়ম না মেনে বাগান করলে ছাদ দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলনও কম হয়। এ বিষয়ে আমরা বিনামূল্যে পরামর্শ দেই। কৃষিমনা সংগঠন প্রথমে ফেইসবুক ও অনলাইনে কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দিতো। এখন ছাদে বাগান করার বিষয়ে জোর দেয়া হচ্ছে। দেশের ৩৮টি জেলায় কৃষিমনা সংগঠন কাজ করছে। কুমিল্লার পর সিলেটে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার অতিরিক্ত পরিচালক যুগল পদ দে ও উপ-পরিচালক মো. আসাদুল্লাহ এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করছেন। কৃষিমনার সদস্যরা নিজেদের টাকা এবং বিভিন্ন কোম্পানি থেকে বীজ, সার অনুদান নিয়ে ছাদে বাগান করায় উৎসাহিত করছেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ছাদে বাগান করার ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উৎসাহ দিচ্ছে। আর এ কাজকে এগিয়ে নিচ্ছে আধুনিক কৃষিমনা।’
/এআরএল/
আরও পড়ুন:







