বন্যার পানির চাপ কমে আসায় মেঘনা নদীতে সম্প্রতি প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। এ ছাড়াও ইলিশ মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলায় মেঘনা নদীর ৬০ কিলোমিটার এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ে জাটকা মাছ না ধরা ও প্রশাসনের সহযোগিতার কারণে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে বলে জানান সংশিষ্টরা।
ইকো ফিশ প্রকল্পের সহযোগী রিচার্স ফেলো আরমান হোসেন বলেন, ‘নদীতে স্বাভাবিক প্রবাহের চেয়ে পানির প্রবাহ বেশি হলে ইলিশ মাছ সাগর থেকে নদীতে কম আসে। এখন পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় প্রচুর ইলিশ মাছ সাগর থেকে নদীতে আসছে।’ সাগরের উত্তর দিকের বায়ু প্রবাহও নদীতে ইলিশ আসার পেছনে একটি কারণ হিসেবে কাজ করে।
চাঁদপুর জেলার চরভৈরবী থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৬০ কিমিটারের মধ্যে ৪০টি মাছ ঘাট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাছঘাটগুলো হলো- সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট, কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, বাত্তিরঘাট, কটরিয়া, লুধুয়া-ফলকন, রামগতি উপজেলার রামগতি ঘাট, টাংকীর ঘাট, আলেকজান্ডার সেন্টার খাল, রায়পুরের চরবংশী এবং চর আবাবিলের ঘাট। মূলত কোরবানির ঈদের দুয়েকদিন আগে থেকে নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ বেড়ে যাওয়ায় এসব ঘাটে জমিয়ে বেচা-কেনা চলছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মহিব উল্যাহ বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর জেলার ৬০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা পড়ে পড়ছে। যেগুলো ধরা পড়ছে সেগুলো ইলিশই, অন্য জাতের নয়। আর এখন সময়ে নদীতে ইলিশ মাছ বেশি পাওয়ার কারণে জেলারা ইলিশের জাল ব্যবহার করছেন। এ কারণে এখন শুধু ইলিশ মাছই পাওয়া যাচ্ছে ঘাটে, অন্য মাছ তেমন ধরা হচ্ছে না বা ধরা পড়ছে না।’
কমলনগর উপজেলার মেঘনা পাড়ের মতিরহাট ঘাটটি বর্তমানে বৃহত্তম নোয়াখালী ইলিশ বেচাকেনার সবচেয়ে বড় ঘাট। প্রতিদিন দেশের প্রায় ৪০ জেলার জেলে, ক্রেতা-বিক্রেতার আগমনে মুখরিত থাকে এ ঘাট। যেখানে ইলিশ মৌসুমে প্রতিমাসে কমপক্ষে দেড়শ কোটি টাকার ইলিশ বেচাকেনা হয়ে থাকে।
ঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের আকারও বেশ বড়। এখন ৫’শ গ্রাম সাইজের প্রতি হালি (৪টি) ইলিশের সর্বোচ্চ দাম ৫-৬‘শ টাকায়, ১ কেজি সাইজের প্রতি হালি ১৮-২৫’শ টাকায়, জাটকা কেজিপ্রতি ১৩০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অক্টোবর মাস থেকেই ২৪ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। তাই এ সুযোগে যে যা পারছে ইলিশ কিনে মজুদ করছে। দাম নাগালে থাকায় ইলিশ কিনে খুশি সাধারণ মানুষও।
লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর মাছ ঘাটের জহির উল্ল্যা বলেন, ‘জালে বেশি মাছ ধরা পড়ছে, আমরা টাকাও পাচ্ছি বেশি। এক নৌকায় ৫-৬ জন মাছ ধরতে যায় ফিরে এসে ১০-১২ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করি।’
ইকোফিশ প্রকল্পের রির্চাস সহযোগী ফেলো আরমান হোসেন জানান, 'এ সপ্তাহ পুরোদমে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়বে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।'
আরও পড়ুন-
/এফএস/








