বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্ত বলেছেন, ‘ফেসবুকের ফেক আইডি থেকে একের পর এক সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে প্রতিটি ফেসবুকের এসব আইডি ফেক হিসেবে প্রমাণিতও হয়েছে। এই সহিংসতার (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সহিংসতা) জন্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনীতিক নেতাদের নিরবতাই দায়ী।’
বুধবার (২ নভেম্বর) দুপুরে অ্যাডভোকেট রানা দাস গুপ্তের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। তারপরই তিনি এই কথা বলেন।
বুধবার দুপুরে বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন শেষে নাসিরনগর উপজেলা সদরের গৌর মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।
উল্লেখ, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয় যা মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ তিন থেকে ৪শ’ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে এ ঘটনার জন্য হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুরো উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার এবং তাদের মন্দিরে বর্বরোচিত হামলা চালায় তারা।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের থামাতে পুলিশ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। পরে রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন। এসব মামলায় অজ্ঞাত ১২শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের আওতায় এসেছেন: দুদক চেয়ারম্যান
/এফএস/








