ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গৌর, লোকনাথ, জগন্নাথ ও শ্মশান কালী মন্দিরসহ ১০টি মন্দিরে হামলায় ভাঙা প্রতিমাগুলো বুধবার অশ্রুসিক্ত নয়নে বিসর্জন দিলেন ভক্তরা। ঘটনার ১৮ দিন পর ধর্মীয় প্রথা মেনে তারা প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেন। এসময় নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় গৌর মন্দিরে উপস্থিত অনাথ বন্ধু দাস, গোপাল দাস ও মোহন লাল দাস জানান, ‘মন্দিরে হামলার ঘটনায় আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা আঘাত পেয়েছি। তবে আমাদের মন ভাঙেনি।’ প্রতিমাগুলো বিসর্জনের আগে তারা পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করেন এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আগামী দিনে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি যেন আগের মতো বজায় রাখে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে অনেকেই জানান, রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে ১৮ নভেম্বর (শুক্রবার) নাসিরনগরে লং মার্চ আসার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর ওপর মহলের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তড়িঘড়ি করে মন্দিরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কৌশলে মন্দির থেকে মূর্তিগুলো বির্সজনের ব্যবস্থা করে।
এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘মন্দির কমিটি এবং এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিরায়িত প্রথা মেনে বিধ্বস্ত প্রতিমাগুলো বিসর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা পরবর্তী সময়ে প্রতিমাগুলো পুনর্নির্মাণের জন্যে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা ব্যবস্থা নেবো।’
গৌর মন্দিরে উপস্থিত নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু জাফর বলেন, 'মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তাদেরকে বিসর্জনে সহায়তা করছি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সবধরনের সহায়তা করা হবে।'
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ৩০ অক্টোবর দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলার নমো শুদ্রপাড়া, দাস পাড়া, ঘোষপাড়া, ঠাকুর পাড়া, গাঙ্কুল পাড়াসহ বিভিন্ন পাড়ায় হামলা চালিয়ে ১০টি মন্দির এবং শতাধিক হিন্দু বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়।
এ ঘটনায় নাসিরনগর থানায় মোট ৬টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ভিডিও ফুটেজ দেখে এখন পর্যন্ত ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে নাসিরনগর সদরে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
/এসটি/এফএস/








