ভিক্ষুক ও ব্যবসায়ীদের উপদ্রবে সৈকতে বিব্রত পর্যটকরা

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার
২৫ নভেম্বর ২০১৬, ১২:৫৫আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৬, ১৫:৪২

সৈকতে ভিক্ষুক ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উৎপাত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভিক্ষুক, টোকাই ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উপদ্রব ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। এ কারণে দারুণভাবে বিব্রত হতে হচ্ছে পর্যটকদের। ভিক্ষুকদের পাশাপাশি সৈকতে চেয়ার-ছাতা, স্পিডবোট, বিচ বাইক, ফটোগ্রাফার ও ঘোড়া ব্যবসায়ীদের হাতেও প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন তারা। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও দিন দিন বেড়েই চলেছে তাদের উৎপাত।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটক ঘুরতে আসেন। তবে সৈকতে নিরিবিলি পরিবেশে শান্তি খুঁজতে এসে পর্যটকরা পড়ছেন বিপাকে। ভিক্ষুক, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও টোকাইরা অতিষ্ট করে তুলছে পর্যটকদের। এছাড়াও সৈকতে ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ী, স্পিডবোট ব্যবসায়ী ও ফটোগ্রাফারদের হাতেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। প্রশাসনের দোহাই দিয়ে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এমনটাই জানিয়েছেন সৈকতে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।

ভিক্ষুক ও ব্যবসায়ীদের উপদ্রবে সৈকতে বিব্রত পর্যটকরা সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি ডা. ফয়সাল ও ফারজানা রহমানের। তারা জানান, ঘণ্টায় ৩০ টাকা করে সৈকতে চেয়ার ও ছাতা বসার জন্য ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু এক ঘণ্টার পর পাঁচ মিনিট একটু দেরি হওয়ায় বাড়তি আরও  ৩০ টাকা চেয়ে বসে। এই ৩০ টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাদের লাঞ্ছিত করে। পরে অন্যান্য পর্যটকদের সহযোগিতায় ওই ৩০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কোনও মতে রক্ষা পান তারা।

ঢাকার মিরপুর থেকে কক্সবাজারে ঘুরতে আসা চৌধুরী আকবর জানান, ‘কিছুক্ষণ পরপর ভিক্ষুকরা এসে টাকা চায়। একজনকে বিদায় করতে না করতে চলে আসে আরেকজন। প্রতি ঘণ্টায় ১০ জন ভিক্ষুক যদি ভিক্ষা চায়, তাহলে আমরা কি শুধু ভিক্ষা দিতেই ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসেছি?’

ভিক্ষুক ও ব্যবসায়ীদের উপদ্রবে সৈকতে বিব্রত পর্যটকরা একই কথা বলেন ঢাকা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা রহিম আলী। স্বপরিবারে কক্সবাজারে ঘুরতে আসা এই মুক্তিযোদ্ধ বলেন, ‘বিচে নামার আগেই পথ আগলে ধরে ফটোগ্রাফাররা। ছবি না তুললে কিছুতেই পথ ছাড়ে না তারা। স্থানীয় প্রশাসন যদি এসব ফটোগ্রাফার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তাহলে পর্যটকদের কক্সবাজার বিমুখ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ 

পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ভিক্ষুক ও হকারদের বিচরণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বিচ-ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে অবহিত করার কথা জানিয়ে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সৈকতে ভিক্ষুক ও হকারদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে সেজন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

সৈকতে কিছু কিছু হকার ও ভিক্ষুকের কথা স্বীকার করে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে ঘুরতে পারেন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

/বিটি/এফএস/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম