ব্যয় কমাতে কর্ণফুলি পেপার মিলে আবার গণবদলি

জিয়াউল হক, রাঙামাটি
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:৫৯আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:৫৯

কর্ণফুলি পেপার মিল রাঙামাটিতে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম কাগজকল কর্ণফুলি পেপার মিলের ২৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এক অফিস আদেশে এই বদলির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলি পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান জাবেদ আনোয়ার।

উৎপাদন কমে যাওয়ায় খরচ কমাতে ‘অপ্রয়োজনীয় জনবল’ বাদ দিয়ে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাবেদ আনোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এই কাগজকলে যে উৎপাদন হচ্ছে তা খুবই নগণ্য। এজন্য বর্তমানে কর্মরত এতো বেশি কর্মচারি-কর্মকর্তা প্রয়োজন নেই। তাই ধারাবাহিকভাবে তাদেরকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন অন্যান্য কারখানায় বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।

এ নিয়ে কর্ণফুলি পেপার মিলের মোট ৫৬০ জন কর্মচারি ও কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় মুহাম্মদ আনওয়ারুর রশীদ, মো: মামুনুল, অ্যাসিসট্যান্ট চিফ অব পার্সোনাল অফিসার, মো: ফখরুল আলম, উপ-কর্মচারি প্রধান-মান-১, বিসিআইসি স্বাক্ষরিতপত্রে এ আদেশ জারি করা হয়।

এসব শ্রমিক কর্মচারি ও কর্মকর্তাদেরকে চট্টগ্রামস্থ সিইউএফএল, টিএসপিসিএল, সিসিসিএল, এএফসিসিএল, বি. বাড়িয়া, এসএফসিএল, সিলেট, পিইউএফএফএল, পলাশ, ইউএফএফএল, আশুগঞ্জ, জেএফসিএল, তারাকান্দি জামালপুরে বদলি করা হয়।

এ বদলির আগ পর্যন্ত কেপিএমে মোট কর্মচারি ও কর্মকর্তা ছিলেন ৯৫৫ জন। এর আগে সবশেষ কেপিএমের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সংস্থার স্বার্থের কথা ভেবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩৩০ জন কর্মচারি ও কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল।

১৯৫১ সালে প্রমত্তা কর্ণফুলি নদীর তীরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় স্থাপিত হয় এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কাগজ কল। এর প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত বাঁশ। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর ১৯৫৩ সালের ১৬ অক্টোবর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায় এটি। কালের পরিক্রমায় নানান বাস্তবতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লোকসান গুনতে শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান।

নব্বই দশকে এসে ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠলে গৌরব আর ঐতিহ্য হারাতে থাকে কর্ণফুলি পেপার মিল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্তদের দাবি, এরই অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক কর্মচারি বদলির মধ্য দিয়ে ব্যয় সংকোচন নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 /জেএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম