খাগড়াছড়িতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত মুক্তিযোদ্ধারা অনিয়মের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের কারণে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করেছে খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবদুর রহমান বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মো. আবুল হাশেম মজুমদার, মো. আশরাফ আলী, মো. হারুন টাকার বিনিময়ে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই তিনজনকে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের সমর্থক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য তারা প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
পানছড়ি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা ১৫ ফেব্রয়ারি যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের অপসারণসহ কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়েছি।
এদিকে বাছাই কমিটির সভাপতি আলী আশ্রাফ তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অনলাইনে আবেদনকারী নতুন ১৮০ জনের যাচাই-বাছাই হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো যাচাই-বাছাই হয়েছে। এখানে কেউ টাকা দিয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর পাশাপাশি ১১৯ জন নানা কারণে সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। তাদের বিষয়টি উচ্চ আদালতে রিট মামলার কারণে বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে কোনও অনিয়ম হয়নি। যারা সন্দেহভাজনের তালিকায় আছেন, তারা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে।
অনিয়মের কোনও কিছু তার জানা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে হাইকোর্টের আদেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
/এআর/








