ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পৃথক দুইটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে এসব ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের মেরাশানী নামক স্থানে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাদক আনার সময় বিজয়নগর থানা পুলিশের একটি টহল দলের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের গোলগুলি হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ী নরুল ইসলাম এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে পুলিশ পাইপ গান, গুলি ও ছোড়াসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে।
তবে নিহত নুরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের দাবি তাকে বাড়ি থেকে ধরে নেওয়ার পর গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী সামিনা বেগম, ভাই আলম মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী নলগরিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নূরুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাতেই তাকে হাত-পা বেঁধে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাকে পাশের গ্রাম মেরাশানী এলাকার পেয়ারা বাগানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। গ্রামবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে লাশ না পেয়ে সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে গিয়ে নুরুল ইসলামের লাশ দেখতে পান।
অন্যদিকে একই রাতে একই উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের খেতাবাড়ী নামক স্থানে পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে বুলবুল প্রকাশ ভুলো ডাকাত নামে একজন নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে খেতাবাড়ী নামক স্থানে প্রায়ই ডাকাতি হয়। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে একদল ডাকাত মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চলায়। এসময় ডাকাতরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে ঘটনাস্থলেই বুলবুল প্রকাশ ভুলো ডাকাত নিহত হয়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাইপ গান, গুলি ও ছোড়াসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: নরসিংদীতে জ্বালানি তেলের দোকানে আগুন








