ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুর (৪৫) ‘গুলিবিদ্ধ’ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও কোনও মামলা দায়ের করেননি তার পরিবার। শুক্রবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাউজান থানার ওসি মো. কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘ নুরুর লাশ দাফন নিয়ে তার পরিবার ব্যস্ত। সম্ভবত এ কারণে এখনও কেউ মামলা করতে আসেননি। তবে তারা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে করবে।’
এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামের খেলাঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে নুরুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।
নুরুর বাড়ি রাউজান উপজেলার গুজরা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের কমলার দিঘীর পাড় এলাকায়। তিনি উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। নুরু কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নুরুকে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন বিকালে মরদেহ উদ্ধারের পর রাউজান থানার ওসি জানিয়েছিলেন, তার মাথায় গুলির চিহ্ন আছে। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা। তার পরণে ছিল লুঙ্গি। শার্ট দিয়ে চোখ বাঁধা। মুখের ভেতর ওড়না ঢোকানো পাওয়া গেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রাউজানের সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী অভিযোগ করেন, জেলা পুলিশের একটা সশস্ত্র টিম চকবাজারের কাতালগঞ্জের বাসা থেকে নুরুকে তুলে নিয়ে যায়। টিমের কয়েকজন জেলা পুলিশের ইউনিফর্ম পড়া ছিল। কয়েকজন ছিল সিভিল পোশাকে। রাউজান থানার নোয়াপাড়া ফাঁড়ির এসআই জাবেদ টিমের নেতৃত্ব দেয়। তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জানা গেছে, নুরুর বিরুদ্ধে রাউজান থানায় দুটি হত্যা, একটি বিস্ফোরকসহ চারটি মামলা আছে।
এদিকে নুরুর মরদেহ রাউজান থানা থেকে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে তার মরদেহ দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি।
ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ নগরীর মিসকিন শাহ মাজারের পাশে কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।
/এআর/








