কুমিল্লায় দিন দিন বাড়ছে জলাবদ্ধতা। প্রতিবার কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে সব প্রার্থীর প্রথম এজেন্ডা জলাবদ্ধতা নিরসন থাকলেও এখনও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কখনও টানা মুষলধারে বৃষ্টি, কখনও ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন সড়ক গড়িয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগ প্রকট আকার ধারণ করেছে। সব মিলিয়ে কুমিল্লা সিটিবাসী এখন জলাবদ্ধতায় নাকাল৷
নগরের বাদুড়তলা এলাকার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সড়ক স্টেডিয়াম এলাকা, বাগিচাগাঁও জেলা পরিষদ বাংলো সড়ক, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, জিলা স্কুল সড়ক, বিষ্ণুপুর, রেসকোর্স, অশোকতলা, বিসিক শিল্পনগর, মনোহরপুর, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা ছাত্রীনিবাস ও কলেজের সব ভবন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, কুমিল্লা ক্লাব, ডিসি রোড, দক্ষিণ চর্থা, কালিয়াজুরি ও চকবাজার এলাকায় বৃষ্টির পানিতে থই থই করছে। সড়কের দুই পাশের নালা উপচে পানি দোকানপাট, কার্যালয় ও বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। তাছাড়া, সড়কে খানাখন্দ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
কুমিল্লা কান্দিরপাড় এলাকায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সামনের সড়কে এক পথচারী আব্দুর রহমান (৫৫) বলেন, এটাকে কি কোনও মানুষ রাস্তা বলবে? রাস্তাটি দীঘিতে পরিণত হয়েছে।
অন্য এক রিকশাচালক সফিক (৩৫) বলেন, কুমিল্লা পৌরসভা থাকতেই ভালো ছিল। সিটি হওয়ার পর শহরের অবস্থা আগের থেকে আরও খারাপ হয়েছে।
স্কুলছাত্রী তামান্না ইসলাম পপি জানায়, গত তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। আজ স্কুলে যাওয়ার পথে রিকশা গর্তে পরে স্কুল ড্রেস নোংরা হয়ে যাওয়ায় আজও স্কুলে যেতে পারিনি।
নগরীর স্কুলগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম।এদিকে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে দিন মজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারনে কাজে যেতে পারছে না তারা। কান্দিরপাড় কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা দিন মজুর মিজান (৩০) বলেন, দুইদিন কোনও কাজ নেই। আজও কাজ না পেলে সংসারের ৫ সদস্য অনাহারে থাকবে।
এদিকে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু দুদকের মামলায় আত্মগোপন করায় তাকে পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুযা বলেন, নগরে ১৭০ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার নালা রয়েছে। এর মধ্যে ১০৫ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার কাচা, ৬৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাকা ও ১৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল রয়েছে। নগরীর পানি প্রবাহের প্রধান খালগুলো পরিষ্কার করা হলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আামি আজ দুপুরেও নগরীর জাঙ্গালীয়া এলাকার খালটি পরিদর্শন করেছি। সিটি করপোরেশনের জনবল দিয়ে খালগুলো ও নালার হোলগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। তবে খালগুলো সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে তাই এগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্ব পানি উন্নযন বিভাগের।
তিনি আরও বলেন, মেয়র থাকাকালীন অবস্থায় আমরা ৬০ লাখ টাকার একটি টেন্ডার আহ্বান করেছি। খাল সংস্কারের কাজ অতি শিগগিরই করা হবে। এসব নালায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে পানি সরতে পারছে না। তার ওপর খালগুলোর ওপরে ব্যক্তিগত কালভার্ট বানিয়ে পানিপ্রবাহে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
/এআর/








