সাজেকে খাদ্য সংকট: ১০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ

রাঙামাটি প্রতিনিধি
৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:৪৬আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:৪৬

সাজেকে দুর্গম গ্রামগুলোতে চলছে তীব্র খাদ্য সংকট রাঙামাটির দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে জুমিয়া পরিবারগুলোতে বিগত আড়াই মাস ধরে তীব্র খাদ্য সংকট চলছে। পাহাড়ের পাদদেশে জুম চাষ, বাঁশ ও বনজ সম্পদ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে সাজেকের দুর্গম গ্রামগুলোর ৪১০টি পরিবার। কিন্তু এ বছর জুম চাষে বিপর্যয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস হ্রাস পাওয়ায় প্রাক-বর্ষা মৌসুম থেকে সাজেকের প্রায় ৪০টি দুর্গম গ্রামে আর্থিক অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে ওইসব গ্রামগুলোতে। তবে খাদ্য সংকট দূর করতে ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ১০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রাথমিক পর্যায়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকুলে ১০ মেট্রিকটন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতৃ চাকমা বলেন, আমরা বরাদ্দের কাগজ হাতে পেয়েছি আজ (রবিবার)। বিষয়টি সাজেক ইউয়িনের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। আশা করছি মঙ্গলবারের মধ্যে চেয়ারম্যানকে বরাদ্দ বুঝিয়ে দিতে পারবো।

এদিকে, খাদ্য সংকট মোকাবেলায় গত ২১ এপ্রিল সাজেক ইউনিয়নের ব্যাটলিং তারুং পাড়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলার সব ইউপি চেয়ারম্যানদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়া ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয় যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

সাজেকের কজতলী পাড়ার গ্রাম্য প্রধান কালা চাঁন ত্রিপুরা জানান, তার গ্রামবাসীর প্রধান জুমিয়া পরিবার আর্থিক অনটনের কারণে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে। তারা জুম চাষ ও পাহাড় থেকে বনজ সম্পদ আহরণ করে জীবিকা চালায়। কিন্তু বিগত সময়ে জুম চাষে ফসল কম হওয়ার কারণে গত চৈত্র মাস থেকে কজতলী গ্রামসহ অনেক গ্রামে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে খাদ্যের অভাবে লোক মারা যেতে পারে।

সাজেক ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার দহিন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, সাজেকের পুরান জোপুই, নতুন জোপুই, উদলছড়ি, পুরান থাঙনঙ, নতুন থাঙনঙ থারুম পাড়া-সহ ২০টির মতো গ্রামের মানুষ আর্থিক অভাবের কারণে চাল কিনতে পারছে না। সাজেকের অধিকাংশ গ্রামে এখনও পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাই। যার কারণে ৯০ কি.মি. পথ পায়ে হাঁটা তাদের একমাত্র মাচালং বাজার থেকে কোনও পণ্য ক্রয় করে ওইসব গ্রামে নেওয়া পর্যন্ত খরচ পড়ে ক্রয়মূল্যের তিনগুণ। ফলে এসব গ্রামে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১১০ টাকা। যার কারণে সাজেকের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ খাদ্য কিনতে পারছে না।

সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা জানান, খাদ্য সংকটের কথা শুনে গত ২১ এপ্রিল দুর্গত এলাকার ৪১০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ১০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এগুলো দ্রুত বিতরণ করা গেলে খাদ্য পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে।

/বিএল/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম