বাংলাদেশের যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। বৃহস্পতিবার (১ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাছে ভারতীয় জাহাজে নিয়ে আসা ত্রাণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ আশ্বাস দেন। চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার করা এক নিহত জেলেসহ ৩৩ বাংলাদেশিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেন হাইকমিশনার। উদ্ধার জেলেদের সবাই চট্টগ্রামের মহেশখালী উপজেলার বলে জানা যায়।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারতো। সরকার যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ায় সেটা হয়নি। বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় আমরাও (ভারত) সর্তক অবস্থায় ছিলাম। আমরা আরও কয়েকটি জাহাজ প্রস্তুত রেখেছি, যাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ বাংলাদেশের যে কোনও প্রয়োজনে কাজে আসতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশের যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভারত পাশে থাকবে।’
শ্রিংলা আরও বলেন, ‘জাহাজে কম্বল, তাবু, প্যাকেটজাত খাবার ও ওষুধ রয়েছে। ত্রাণসামগ্রী এখানে খালাস হবে। বাংলাদেশের যদি আরও সাহায্য লাগে আমরা সেটাও দিতে প্রস্তুত আছি।’
ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, ভারতের আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।
বাংলাদেশের পক্ষে ভারতীয় ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী। সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোয় ভারত সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ ভবিষ্যতেও ভারত বাংলাদেশের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএনএস সুমিত্রা’র কমান্ডিং অফিসার পি কে শ্রিনান, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার, বিএনএস ঈশা খাঁ’র কমান্ডিং অফিসার কমোডর মুসা, বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) ক্যাপ্টেন জুলফিকার আজিজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুকুর রহমান সিকদার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশিদ প্রমুখ।
/এফএস/
আরও পড়ুন-
সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট








