লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দাফনের ১৭ দিন পর আদালতের নির্দেশে এক স্কুল ছাত্রীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কুলসুম (১০ ) নামে ওই ছাত্রীর লাশ উত্তোলন করা হয়। ২০ মে ময়না তদন্ত ছাড়াই কুলসুমের দ্বিখণ্ডিত লাশ দাফন করা হয়।
নিহত কুলসুম স্থানীয় আব্দুল কাদেরের মেয়ে ও গোলাম রহমানিয়া বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৪ মে উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের চর হাসান-হোসেন গ্রামে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় কুলসুম। ২০ মে দ্বিখণ্ডিত অর্ধগলিত অবস্থায় একই গ্রামের একটি বাগানে তার লাশ পাওয়া যায়। পরে রহস্যজনক কারণে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশটি দাফন করা হয়।
নিহত ছাত্রীর মা ও পুলিশ জানায়, গত ১৪ মে বিকালে কুলসুম খেলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। বহু স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করা হয়। ২০ মে দুপুরে পার্শ্ববর্তী মুরাদ মিয়ার ছাড়াবাড়ি (বাগান বাড়ি) থেকে একটি অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। লাশটির পরনের পোশাক দেখে কুলসুমের লাশ হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেয় পরিবার। এ সময় পুলিশ সাদা কাগজে কুলসুমের বাবার স্বাক্ষর নিয়ে পরিবারের কাছে লাশটি হস্তান্তর করে। পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফনও করা হয়। পরে গত ২৪ মে নিহত ছাত্রীর মা বিবি জবেদা তার মেয়ে কুলসুমকে অপহরণ ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ এনে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
এর প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই ছাত্রীর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
এদিকে নিহত ছাত্রীর মা জবেদা বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার মেয়ে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল মো. শাহনেওয়াজ খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পানিতে ডুবে মারা গেছে ভেবে পরিবারের লোকজন তাকে দাফন করেন। পরে অভিযোগ দেওয়ায় থানায় হত্যা মামলা নেওয়া হয়। লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/বিএল/








